কাজের মেয়ের ঈদ
কাজের মেয়ের ঈদ
আতাউর রাহমান

গল্প - কাজের মেয়ের ঈদ

আতাউর রাহমান
শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫ অন্যান, জীবনবাদী

ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানীতে আবরার সাহেবের বাসা। তিনি একজন ব্যস্ত ব্যবসায়ী, সংসারে স্ত্রী আর দুই মেয়ে—মাহি ও মনিরা। বাড়িতে আরও একজন থাকে, নাম তার সাথী। বয়স তেরো-চৌদ্দ হবে, গ্রামের হতদরিদ্র পরিবার থেকে কাজের সন্ধানে এসেছিল ঢাকায়। সাথির বাবা-মা বলে কেউ নেই, দূর সম্পর্কের এক খালা তাকে আবরার সাহেবের বাসায় কাজের ব্যবস্থা করে দেন। সাথি আবরার সাহেবের বাসায় সকল কাজকর্ম করে এবং সেখানেই থাকে। প্রায় এক বছর হয়ে এলো সাথীর। আবরার সাহেবের বাসায় কাজ করছেন। মেয়েটি বেশ ভালই, অল্প বয়স হলেও কাজে-কর্মে বেশ ভালই দক্ষতার সাথেই আবরার সাহেবের বাসায় সে কাজ করে, রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সকল ধরনের কাজেই তার সুনিপুন পারদর্শিতা রয়েছে।
রোজার ঈদ আসছে। চারদিকে সাজসজ্জা, কেনাকাটার ধুম লেগেছে। মাহি আর মনিরার জন্য আবরার সাহেব দামি পোশাক আর জুতা কিনলেন। নতুন শাড়ি কিনলেন তাঁর স্ত্রীর জন্যও এবং নিজের জন্য পাঞ্জাবি ও পায়জামা কিনলেন। কিন্তু সাথীর জন্য কিছুই কেনা হলো না।
ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায়, মনিরার আলমারি থেকে একজোড়া পুরনো জামা আর জুতা বের করে দিলেন আবরার সাহেবের স্ত্রী। বললেন, সাথি এগুলো তুই নে, তোর তো নতুন কিছু দরকার নেই! এগুলোই ভালো আছে। এতেই তোর ঈদ চলে যাবে।
সাথি মুখ নিচু করে জামা আর জুতা হাতে নিল। পুরনো জামার সেলাই ছেঁড়া, জুতার একপাশ ক্ষয়ে গেছে। কিন্তু সে কিছু বলল না। চুপ করে সেগুলো নিয়ে মনিরার রুম থেকে বের হয়ে গেল।
ঈদের দিন সকালে, মাহি-মনিরারা যখন নতুন পোশাক পরে ছবি তুলছিল, সাথি তখন রান্নাঘরে নানা রকমের রান্না-বান্না করছিল। ওর ঈদ কেবল অন্যদের সেবা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নেই কোন সাধ আল্লাদ, মানুষের বাসায় কাজ করে কিসের আবার এত সাধ-আল্লাদ।
সেদিন দুপুরে ছাদের কোণে একা বসে, সাথি ফিসফিস করে বলছে আমার আবার ঈদ। মনের অজান্তেই চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। সাথি কাঁদতে কাঁদতে বলেই ফেলল,আমারও তো ঈদ হতে পারত, তাই না?”আজ যদি আমার বাবা মা বেঁচে থাকত, তাহলে তো আজ ঢাকায় এসে মানুষের বাসায় কাজ করতে হতো না। আমিও খুব আনন্দের সাথে বাবা -মাকে নিয়ে ঈদ করতে পারতাম। হঠাৎ করেই আবার সাহেবের স্ত্রীর ডাক আসল,সাথি কোথায় তুই? সাথি ডাক শুনে চোখের পানি মুছতে মুছতে ছাদ থেকে নিচে নেমে গেল।

পরে পড়বো
৩৫৫
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন