কবিতা — ক্ষুধা পেটে অরুচি

সুখের পাঁচতারা হোটেলের বাবুর্চি,
সুস্বাদু খানা পাকায়, যেটা যার রুচি।
কাঠপেটে তীব্র খিদে যায় শুকিয়ে,
পেটে খিদে, তবু মুখে দেখায় অরুচি।

সুগন্ধে শুকনো জিভে জল আসে,
টেবিলে রাখা প্লেট শুকনো হাসে!
ক্ষুধার্ত মুখখানি ফ্যাকাসে, মলিন,
ভাবনায় পেট ভরে, কেটে যায় দিন।
ছুঁয়েও পারে না, ছোঁয়াতে সে কভু,
জিভের ডগায় এসেও ফসকে যায় তবু!

কাঁচের আয়নায় ঘেরা সাজানো প্লেট,
চোখে দেখে প্রাচুর্য, ভরে না তো পেট!
বুক ফাটে দেখে দেখে ক্ষুধা-তৃষ্ণায়,
খালি পেটে গরিবের দিন কেটে যায়।

খেটে গড়ে তোলার শুধু অধিকার,
নিজ হাতে গড়ে, তবু পায় না খাবার!
শস্যে ভরে ওঠে দেশ, ভরে ধনভাণ্ডার,
খালি পেটে কাটে দিন তাদের সংসার।

ভরা এই বাগানেতে দেখা মেলে কভু,
ফুল ফুটে থাকে কত চারিদিকে তবু।
অভাব দলে বাঁচার সুখ অভাগাদের দিন,
প্রাচুর্যে লাগে না হাত, জন্মগত ভাগ্যহীন!

সকলের তরে এই সুন্দর ধরণী পরে,
যত সম্পদ , সকলেরই বাঁচার তরে।
কেন জাগে না বিবেক, মোরা হৃদয়হীন?
সবারে বাঁচুক সুখে—আসবে কি সুদিন?

৭ বার পঠিত রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

লেখকের অন্যান্য প্রকাশনা