আজিজুল হক

কবিতা - লা-ফানা মহব্বত

আজিজুল হক

নারী—
সে কোনো উচ্চারিত শরীর নয়,
বরং এক মুতাশাবিহ্‌ আয়াত,
যার তাফসির লিখতে গিয়ে
সভ্যতা বারবার রক্তাক্ত হয়েছে।
তার নীরবতার ভিতরে
আমি শুনেছি কারবালার পিপাসা,
আন্দালুসের ভগ্ন মিনারে
ঝুলে থাকা আজানের বিষণ্ন ধ্বনি।

কত সাম্রাজ্য
নিজেদের খিলান বাঁচাতে গিয়ে
মানুষের হৃদয় পুড়িয়ে ফেলেছে—
তারপরও কোনো এক দরবেশ
ভাঙা রুটির পাশে রেখে গেছে
মহব্বতের সবুজ নিশান।

নারী—
সে এক দাউদাউ দাবানল,
যার ভিতরে জ্বলে ওঠে
মাযহাবের অন্ধ উন্মাদনা,
জাতপাতের গোপন কুঠার,
মুনাফিক সময়ের সোনালি মুখোশ।

তার চলনের ভিতরে
আমি দেখি উদ্বাস্তু কাফেলার ধুলিঝড়,
দেখি শ্রমিকের কাঁধে চেপে বসা
অদৃশ্য সালতানাত।
কত শোষক
তার সৌন্দর্যকে বাজারে তুলে
নিজেদের মুদ্রা চকচকে করেছে।

আর কত নিঃস্ব মানুষ
তার চোখের করুণ ছায়ায়
এক ফোঁটা আশ্রয় খুঁজেছে।
তার সমগ্র অস্তিত্ব যেন
এক নিষিদ্ধ কাসিদা!

যেখানে প্রেম মানে শুধু রোমান্স নয়,
বরং বিদ্রোহের আতশ,
অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা
শেষ মিনারের দীপশিখা।
আমি যখন তার দিকে তাকাই,
দেখি,
একদিকে সাম্প্রদায়িক বারুদের গন্ধ,
অন্যদিকে সুফিয়ানা সম্প্রীতির ধূপ।

দেখি মানুষ
কী নির্মমভাবে মানুষকে হত্যা করে,
আবার সেই মানুষই
অন্ধকারে কারও কপালে
মমতার পরশ ছুঁয়ে দেয়।

নারী,
সে কোনো একক অভিধান নয়।
সে ইশ্‌ক ও ইনকিলাবের যুগল নদী,
সে গোপন ফরমান,
সে বেহেশতেরও আগে
মানবতার শেষ আশ্রয়।

আর তার নীরবতার গভীরে
আজও জ্বলছে—
এক অনন্ত, অদম্য,
লা-ফানা আগুন।
………..

পরে পড়বো

মন্তব্য করুন