আজিজুল হক

কবিতা - নারী যখন বিবর্ণ হয়

আজিজুল হক
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিদ্রোহী-দ্রোহের কবিতা, বিরহের কবিতা

আমি তাকে প্রেম বলিনি—
কারণ প্রেম বললে তাকে ছোট করা হয়।
সে ছিল এক অদৃশ্য বিপ্লব,
যে আমার বুকে দরজা ভেঙে ঢুকে বলেছিল—
“তোমার ঈশ্বর কোথায়?”
আমি বলেছিলাম—
ঈশ্বর তো মসজিদের নীরবতায়।

সে হেসে উঠেছিল—
“তবে কেন তোমার চোখে আমাকে দেখে আগুন জ্বলে?”
আমি বুঝলাম,
সে নারী নয়—
সে এক আয়না,
যেখানে আমি নিজের ভীরুতা দেখেছি,
নিজের অর্ধেক আত্মা দেখেছি নগ্ন।

সে আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
বলেছিল—
“তুমি আমাকে ভালোবাসো না,
তুমি আমার ভেতরের আলোকে ভয় পাও।”
প্রত্যাখ্যানের সেই রাত
ছিল আমার প্রথম নামাজ।

আমি কাঁদিনি—
আমি ভেঙে পড়েছিলাম নিজের ভেতরে,
যেখানে সব অহংকার ছাই হয়ে গেল।
তার ঠোঁট ছিল বিপ্লবের শপথ,
তার নীরবতা ছিল এক গোপন জিহাদ—
নিজের বিরুদ্ধে।

আমি তাকে স্পর্শ করিনি,
কারণ সে শরীর ছিল না,
সে ছিল এক দরজা
যেখানে প্রেম মানে আত্মসমর্পণ নয়,
বরং আত্মাকে ভেঙে নতুন করে গড়া।

সে বলেছিল,
“যদি আমাকে ভালোবাসো,
তবে আমাকে অধিকার কোরো না।
আমাকে মুক্তি দাও—
যেমন বাতাস দেয় আগুনকে।”

আমি তখন বুঝলাম—
প্রেম মানে পাওয়া নয়,
প্রেম মানে জ্বলে ওঠা।

সে নারী এখনো আছে—
কোনো এক মূর্তির আড়ালে,
কোনো এক প্রতিবাদের ভেতরে,
কোনো এক বিপ্লবী চুম্বনের নীরবতায়।

আমি তাকে আর খুঁজি না—
কারণ সে আমার বাইরে নয়।
সে এখন আমার ভেতরের দরবেশ।
যে ঘুরছে,
ঘুরছে,
ঘুরছে—
আর প্রতিটি ঘূর্ণিতে বলে—
“ভালোবাসা মানে ভাঙন,
আর ভাঙন মানেই মুক্তি।”
…..

পরে পড়বো
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন