আজিজুল হক

কবিতা - নয়াচর

আজিজুল হক
বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ দেশাত্মবোধক কবিতা, বিরহের কবিতা

মানুষ হারিয়ে যায়—
নিরুদ্দেশ নয়, বরং অদৃশ্য এক অন্তর্গত অন্ধকারে,
যেখানে হৃদয় নিজেকেই চিনতে পারে না।

মাটির প্রতিমা গড়তে গড়তে
যে হাতগুলো প্রাণের আরাধনা শেখে,
সেই হাতই একদিন স্পর্শ করে—
কিন্তু জাগায় না আত্মা,
শুধু শরীরের উপর ভাসিয়ে দেয় ক্ষণিকের উষ্ণতা।

ধানের শীষ ছুঁয়ে হেঁটে যাওয়া সেই উন্নাসিক রমণী—
তার চোখে জমে থাকা শিশির
আসলে কোনো ভোর নয়,
বরং অব্যক্ত এক বৃষ্টির পূর্বাভাস,
যেখানে প্রতিটি ফোঁটা দুঃখের,
আর প্রতিটি ঝরে পড়া শব্দ—একটি অপূর্ণ প্রেম।

আমাদের দেখা হয়েছিল,
হ্যাঁ, হয়েছিল,
কিন্তু তা ছিল না কোনো মিলন,
বরং ছিল একে অপরকে এড়িয়ে যাওয়ার
অদ্ভুত রাজনৈতিক কৌশল!

তুমি আমার দিকে তাকিয়েছিলে,
যেন আমি কোনো ভোট!
দেওয়া যায়, নেওয়া যায়,
কিন্তু কখনোই ভালোবাসা যায় না।

আমরা আজও বন্দী—
ভোট বাক্সের অন্ধকারে,
যেখানে হৃদয় গোপন থাকে,
আর শরীরই হয়ে ওঠে একমাত্র পরিচয়পত্র।

এই প্রেম আমি চাইনি—
যেখানে স্পর্শ আছে, অথচ আত্মা নেই,
যেখানে প্রতিশ্রুতি আছে, অথচ বিশ্বাস নেই।
আমি খুঁজেছিলাম এক বনলতা—
কোনো এক শান্ত বিকেলের অবসানে,
যে বলবে, “এতোদিন কোথায় ছিলেন ?”

কিন্তু পেয়েছি কেবল স্লোগান,
পেয়েছি বিভেদের শ্লেষ,
পেয়েছি কণ্ঠহীন ভালোবাসার মৃতদেহ।

তাই আজ আমার প্রেম—
কোনো কোমল পত্র নয়,
বরং আগুনের ফুলকি,
যা জ্বলে ওঠে প্রতিটি প্রত্যাখ্যানে,
প্রতিটি মিথ্যে স্পর্শে।

আমি আর প্রেম চাই না,
আমি চাই এক বিস্ফোরণ,
যেখানে হৃদয় আর রাজনীতি
একসাথে ভেঙে পড়ে,
আর সেই ধ্বংসস্তূপে জন্ম নেয়
একটি সত্যিকারের স্পর্শ—
যেখানে মানুষ,
অবশেষে মানুষ হয়ে ওঠে।
….. …..

পরে পড়বো
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন