বিজন,
তোর কপালে কি আজ পান্তা ছিলো?
নাকি কেবল ভাঙা হাঁড়ির নিচে পড়ে থাকা
পচা ভাতের গন্ধ শুকেই দিন গুনেছিস?
আচ্ছা, তুই কী খাস সেটা তেমন বড় কথা নয়,
বড় কথা হলো—তোকে না খেয়েই বেঁচে থাকতে হয়!
দুপুরে বাবুদের টেবিলে
কাঁটাচামচের খটখট শব্দ—
স্টেকের পাশে সাজানো ওয়াইন গ্লাস,
নরম রুটি ছিঁড়ে
অলিভ অয়েলে চুবিয়ে খায় তারা।
আর তুই?
মাটির গামলায় এক আঁজলা ফ্যান চেটেপুটে
তাকিয়ে থাকিস গগনচুম্বী হোটেলের দিকে।
তোর ক্ষুধার্ত চোখ কি বাবুদের মন গলাতে পারে?
নাহ্! ওরা জানেও না,
তুই ঠিক কতগুলো রাত না খেয়ে কাটিয়েছিস!
বিজন, সন্ধ্যাবেলা
যখন তারা সুইমিং পুলের পাশে বসে
চিয়ার্স বলে পানীয় তোলে,
তুই তখন নর্দমার ধারে বসে
প্লাস্টিকের বোতলে পঁচা দেশি মদ ভরিস।
বাবুরা হুইস্কির ব্র্যান্ড নিয়ে তর্ক করে,
তোর জিভে শুধু পুড়ে মরার স্বাদ।
বাবুদের কুকুরও তো তোদের চেয়ে ভাগ্যবান,
পোষা রিট্রিভারদের খাবারে আসে আমদানিকৃত মাংস,
আর তুই ভাগাড়ের পাশে দাঁড়িয়ে
কুকুরের উচ্ছিষ্টে ভাগ বসানোর চেষ্টা করিস!
বিজন, রাতে যখন
তোর মতো আরো অনেক বিজন
পেটের ক্ষুধায় বস্তির আঁধারে কুঁকড়ে থাকে,
বাবুরা তখন পাঁচ তারকা হোটেলের
গাঢ় পর্দার আড়ালে
মখমলের বিছানায় শরীর গরম করে।
তুই জানিস তো,
তোদের রক্তে গড়া সড়কে তারা বিএমডব্লিউ হাঁকায়,
তোদের গায়ের ঘামেই জমে কাচের অফিস,
তোদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমেই
ওদের রেড ওয়াইনের গ্লাস ভরে ওঠে।
তাই বলি বিজন,
তোর রক্ত খেয়েই ওরা বাঁচে,
আর তুই?
তুই কেবল বেঁচে থাকিস মরার অপেক্ষায়!
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন