কবিতা - বিলাপদেয়াল ও বাবার হাত

চাষা হাবিব
সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫ রূপক কবিতা

বিলাপদেয়াল ও বাবার হাত

বিলাপের দেয়ালে বসে পড়ে হুদহুদ পাখি
বাবাও সেদিন এক শহর মানুষ আর একপ্রস্থ বাদামি-ধূসর সকাল পকেটে নিয়ে হাজির হয়েছিল বিলাপদেয়ালের সামনে। কৈশোরের উপস্থিত সমবেত গণনৃত্য আর বিলাপ ক্রন্দসীতে ঢেকে রাখা লাশগন্ধ পকেটে করে বাবা বাড়ি ফেরে। সেখানে নাকি বড়দিনের ক্রুশ্চেভে জলপাই তেল মাখানো হয় রোজকার। সেই দেয়ালে আরব-জয়তুন, গেরুয়া-চীবর, খোরমার খোসা আর রুদ্রাক্ষ কুচি কুচি করে মিশিয়ে দেয় শরবতী বেগানা নারী-পুরুষ।

বাবা ফিরে আসে খালি হাতে
ফিরে আসে ধূপদুপুর, জোব্বা ঝুলে পড়ে ঘামের ভারে। লুঙ্গির কোঁচায় ক্ষতের দাগে দজলা-নীলের আভা স্রোত হয়ে ফুঁসে ওঠে পোড়াশহর, জ্বলে ওঠে দগদগে দাউদের নক্ষত্র। নাফ থেকে আমুর-ইরাবতী-বমিয়ান-বুড়োগঙ্গা হয়ে পলি মাটির বুক চিরে সর্বত্র যেনো খসে পড়ে সাহসী বাবার হাত।

বাবা রোজ হাটে যায় কিনে আনে পাহাড়ি মলম
কখনো কখনো সঞ্জিবনী সালসা মদক, যেনো শরীর হয়ে ওঠে তাগড়া জোয়ান। অথচ বিলাপদেয়াল এঁকে নেয় গ্রাফিতি-ইলুমিনাস-লুসিফার একচোখা দজ্জাল। আর সেখানেই দাউদের কণ্ঠে এখনো বিলাপ কোরাসে গলায় গলা মিলিয়ে রব তোলে আর্তনাদ— হায় হোসেন হায় হোসেন।

মধুমাসের হাটবারে আমাতভর জমা হয়
ফিরতি পথে ছোকরার দল হাটখোলার সেই দেয়ালে পথ আগলায়। আর বাবার সদাই-পাতি জমা করে ব্যাগে ভরে একশহর দড়িতে— দাঁড়ি টেনে বাবার হাত কেটে নেয় দৃশ্য কিংবা অদৃশ্য বিলাপের দেয়াল।

পরে পড়বো
৮৩
আবৃত্তি করেছেন: চাষা হাবিব
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন