তোমাদের প্রদীপখানি থাক আলোকিত,
তোমরা সবাই থেকো তোমাদের মতো;
আজ থেকে পথ মোর হলো নিরূপিত,
একা চ’লে যাবো, যত থাকে ক্ষত।
তোমাদের হাসি-গান, তোমাদের দিন,
আমার এ পথ থেকে বহু দূর যেন;
আমি আজ ফিরলাম, সব দেনা শোধহীন,
আমার জগৎ আজ আমারই তো কেন!
হাজারো মুখোশ আর মিথ্যের আবরণ,
বয়েছি এতদিন এই জীবনের পথে;
আজ সেই ভারমুক্ত হলো এ মন,
নিঃশব্দে মিশে যাবো অজানা স্রোতে।
যে বাঁধন ছিল মিছে, ছিল শুধু মায়া,
সে বাঁধন ছিঁড়ে আজ আমি চলে যাই;
রইলো না কোনো পিছুটান, নেই কোনো ছায়া,
নীরবতা ছাড়া আর কিছুই না চাই।
তবুও হয়তো রবে দু’একটি স্মৃতি,
কোনো এক মেঘে ঢাকা পুরোনো দিনের;
অন্ধকারে খুঁজবো না, চাইবো না প্রীতি,
আমার এ অন্তিম পথ হোক দুস্তর, কঠিন।
তোমাদের ভেতরের যত আলোক-রেখা,
একটু একটু করে হবে ম্লান তারা;
আমার নামটুকু হবে অচেনা-দেখা,
নতুন প্রভাতে সব দুঃখ হবে সারা।
আজ শুধু শূন্যতার দিগন্তে আহ্বান,
স্মৃতির ধূলি ঝেড়ে পথ চলা শুরু;
পিছনে ফেলে আসা সব বিষাদের গান,
আমার নিয়তি আজ একাকীনি পথ।
ক্লান্তি ভুলে আজ চোখ যাক ঘুমে,
পুরাতন ব্যথাগুলো যাক মুছে যাক;
শেষ প্রহরে কোনো বিষাদের ঝুমে
আমার এই নামখানি যেন না ডাক।
আর কোনো জিজ্ঞাসা বা নেই প্রয়োজন,
যা ছিল ভুল সবই করলাম স্বীকার;
স্বচ্ছ হলো আজ এই জীবনের ক্ষণ,
এটাই আমার শেষ, এটাই অঙ্গীকার।
বলি আমি শেষবার, শান্ত এই রবে—
”বিদায় পৃথিবী,”—আলো হোক বা অন্ধকার,
আমি শুধু আমার মতো, আমারই নীরবে,
ভুলে যাবো যত ছিল মিথ্যা অঙ্গীকার।
কবিতা - মুক্তির অঙ্গীকার।
মোঃ ফখরুল ইসলাম সাগর।
সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
অন্যান্য কবিতা, সাম্য-জীবনমুখী কবিতা
১০৪

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন