অতঃপর পূর্ণতা।
(দুঃখের পথ হতে চিরশান্তির উপলব্ধি)
একাকী পথ সে চলে, হেঁটে,
চোখে দুঃখ, মন তবু মেতে।
নক্ষত্র নিভে গেছে দূরের আকাশে,
নীরবতা ফিসফিস করে হারানো স্বরে।
প্রতিটি আশা যেন নিভে গেছে ধীরে,
পদধ্বনি বাজে জীবনের তীরে।
বিরহের দীর্ঘশ্বাস নীরবতা ভরে,
স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি স্মৃতির পাতায় রহে।
দূরের নদী কাঁপে শান্ত স্রোতে,
ক্লান্ত পাখি আশ্রয় লয় গাছের কোণে।
হৃদয় সন্ধান করে এক কণা আলো,
যেখানে শেষ প্রশ্নও পায় উত্তর ভালো।
স্বর্ণালী রোদ আসে সূক্ষ্ম আভা লয়ে,
আলোর ফোঁটা ছড়ায় অন্তরের বাগানে বহে।
প্রশ্ন আর উত্তর এক বিন্দুতে মেশে,
নীরবতার স্রোত বাজে হৃদয়ে অবশেষে।
অতীতের দুঃখ শুধু স্মৃতি হয়ে রয়,
নব আলোকের জন্ম প্রতিটি নিশ্বাসে হয়।
কালের প্রবাহ মেশে শান্ত সিন্ধুতে,
আশ্রয় খুঁজে পায় প্রাণ তার নিভৃতিতে।
প্রাণের কোলাহল ম্লান, চঞ্চলতা হারায়,
শান্তির জলে হৃদয় তার ছায়া পায়।
অতঃপর পূর্ণতা আসে ধীর পায়ে,
রিক্ততাও শেষ গান গায় ধীরে ধীরে।
আর কিছু পাওয়ার নেই, আর কিছু জানার নেই,
শুধু এক স্থির লয়, অবিরাম, অনিবার।
সেখানে আকাঙ্ক্ষা নেই, নেই কোনো ভয়,
জ্ঞান ও মুক্তি মিলিত হয় একাকার হয়ে।
ভেঙে যায় ব্যবধান—তুমি, আমি, আর সব,
এই নীরবতার মাঝে জীবনের অনুভব।
শেষে হৃদয় ডোবে চিরশান্তির স্রোতে,
নীরবতার বাগানে পূর্ণ জীবন ফোটে।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন