আতঙ্ক
আতঙ্ক
হাবীব

গল্প - আতঙ্ক

হাবীব
রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভৌতিক, রহস্য

অর্নব হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে উঠেছে,অথচ কোনো চিল্লাচিল্লি,হৈচৈ কিংবা কোনো শব্দেও ঘুমটা ভাঙ্গেনি। বিছানায় শুয়েই কিছুক্ষণ ঝিম মেরে তাকিয়ে থাকলো সিলিং ফ্যানের দিকে। সে কোথাও শুনেছিলো কোনো অশরিরী কিছু কারোর দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলেই কোনো কারণ ছাড়াই এমন ঘুম ভেঙ্গে যায়। বেশ কিছুক্ষণ শুয়ে থেকেও বাড়িতে কারোর কোনো সারাশব্দ পাচ্ছে না,অর্ণব দিনের বেলা সচরাচর এমন ঘুমায় না। এতক্ষণে তো ছোটবোন হাফসা এসে তাকে বিরক্ত করার কথা! রান্নাঘর কিংবা ডাইনিংয়ে মায়ের কাজকর্মেরও ঝনঝনানি টুং টাং শব্দ নেই,ব্যাপার কি! বাসার সবাই কি কোথাও বেড়াতে গেছে? বিছানা থেকে উঠে হাতমুখ ধুয়ে সে একটা একটা রুমে উঁকি মারতে থাকে,কই কোথাও তো কেউ নেই! মা,বাবা,ছোটবোন হাফসা তাকে না জানিয়ে হঠাৎ কোথায় গেছে? ভাবতে ভাবতেই সে মা-বাবার ঘরে ঢুকে পড়লো এবার। একরাশ হতাশা নিয়ে বসে পড়লো বিছানায়,হঠাৎ তার চোখ গেলো ড্রেসিং টেবিলের দিকে। টকটকে লাল তাজা রক্ত গড়িয়ে বের হচ্ছে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার চুয়ে। অর্ণব বেশ ভয় পেয়ে গেলো,শিরডারা বেয়ে শীতল ভয়ের শ্রোত নেমে গেলো তার শরীর দিয়ে। অর্ণব কাঁপা কাঁপা হাতে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার খুলে দেখতে পেলো হাফসার লাশ কোনরকমে ড্রয়ারে বন্ধ করে রাখা। চোখ দিয়ে ঝরিয়ে পড়ছে রক্ত,বুকটা ছিন্নভিন্ন। মনে হচ্ছে যেনো এই মুহুর্তেই হাফসা রক্ত দিয়ে গোসল করেছে। অর্ণব ভয়ে চোখ বন্ধ করে মেঝেতে বসে পড়ে। পেছনে সরতেই খাটের পায়ার সাথে পিঠ ঠেঁকে যায় আর মেঝেতে রাখা বাম হাতটা ভিজে ওঠে রক্তে। এ রক্তের উৎস দেখতে সে বিছানার চাদরটা উপরে তুলে দেখলো মায়ের চোখ বাঁধা,হাত পায়ের কাটা শিরা থেকে এখনো কালচে রক্ত চুয়ে পড়ছে। অর্ণব ভয়ে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। তার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে,হাত পায়ে যেনো আর কোনো শক্তি নেই,তবুও কোনরকমে ঘর থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে। দরজার সামনে আসতেই চোখ যায় বাক্সের কোণায় দেয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বাবা বসে আছে। অর্ণব দৌড়ে গেলো তার কাছে। বাবাকে জাগানোর জন্য শরীরে হাত দিতেই মেঝেতে ঢলে পড়ে তার লাশ। এসব কি হয়ে গেলো,কেনো হলো,কে করলো এমনটা?অর্ণব কপাল চাপড়ে কাঁদতে থাকে। হঠাৎ কারোর অট্টহাসি শুনে ভয়ে ভয়ে পেছনে তাকায় অর্নব। হুবহু তারই মতো অবয়বের কেউ তার সামনে দারিয়েই বিশ্রী অথচ ভয়ংকর ভাবে শব্দ করে করে হাসছে,হাতে তার ধাঁরালো ছুড়িটা ঘরের ভেন্টিনার দিয়ে ঢোকা বিকেলের পড়ন্ত আলোয় চকচক করছে।
অর্ণব ভয় এবং রাগে বিকট চিৎকার করে প্রশ্ন করে,
-কে তুমি? তুমিই কি আমার মা,বাবা,বোনকে মেরে ফেলেছো? কেনো করেছো এমনটা? আমরা তোমার কি ক্ষতি করেছি? কেনো মেরেছো?
-হা হা হা,আমি নই অর্নব,এদেরকে তো তুমিই মেরে ফেলেছো…
এটুকু বলেই অর্নবের অবয়বটা অর্নবের দিকে এগুতে থাকে। ছুড়িটা পেছনে নিয়ে তারই অবয়ব তার দিকে তীব্র আঘাত হানে। অর্ণবের পেটে ছুড়ি ঢুকতেই ধড়মড় করে ঘুম থেকে জেগে ওঠে অর্নব। তার শরীরটা ঘামে ভিজে জবজবে। সিলিং ফ্যানটা অফ,সম্ভবত লোডসেডিং হয়েছে। আসে পাশে তাকিয়ে নিজের হাত পায়ে হাত বুলিয়ে নিশ্চিত হলো এটা একটা ভয়ংকর স্বপ্ন ছিলো,চোখ বন্ধ করে একটা দির্ঘশ্বাস ছেড়ে চোখ খুললো। বিছানা থেকে নামতে যাবে তখনই দরজায় কড়া নারার শব্দ পেলো। অর্ণব জিজ্ঞেস করলো,
-কে?
দরজার ওপাশে থেকে কারোর গলার স্বর শুনতে পেলো,
-অর্ণব,দরজাটা খোলো,এভাবে আর কতোক্ষণ বাঁচতে পারবে? তোমার মা,বাবা,বোনকে হত্যা করা শেষ এখন একমাত্র তুমিই বাকি আছো। ভালোয় ভালোয় দরজাটা খোলো নইলে দরজাটা ভাংতে আমার মাত্র এক মিনিট সময় লাগবে…

তীব্র ভয়ে অর্ণবের শরীর বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেলো,শরীরের লোম কাটার মতো শক্ত হয়ে গেলো।

🌸🌸🌸
অনুগল্পঃ আতঙ্ক
~ হা বী ব

পরে পড়বো
৬২
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন