এই যে দেখো, ভরছে এ বুক, অঢেল শোক-বিসন্নতায়,
চোখের ভেতর সমুদ্রটা, কে বলো ঠিক দেখতে পায়?
ব্যথার পাহাড়, আঘাত-পাথর—শখ করে কে পুষতে চায়?
জীবন কেমন? পুড়লে কপাল, ঠিক তখনই বোঝা যায়!
সুখ ভেবে এই শরীর জুড়ে, ক্ষতের দাগই ছড়াচ্ছি—
উষ্ণতা চেয়ে তুলো ভেবে, কাঁটার বৃক্ষেই জড়াচ্ছি।
সহজ রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে, গোলকধাঁধায় হারাচ্ছি,
হৃদয়কে ভাঙা যন্ত্রের মতোই, ব্যান্ডেজ বেঁধে সারাচ্ছি।
থাকতে সুখে ভূতে কিলোয়, চাখতে গিয়ে প্রেমের স্বাদ—
কত নাবিক মরল ডুবে, রাজার রাজ্য ধূলিসাৎ।
কঠিন মৃত্যুফাঁদ যেখানে, সামনে বাঘ, পেছনে খাদ—
দোটানায় পড়লে এ মন, জীবনটা হয় শাঁখের করাত।
খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচার চেষ্টা, পায় না খুঁজে নদীর তীর,
ঘর ভাঙলে যাযাবর জীবন, ছুটতে থাকা মুসাফির।
দুঃখ পেলে প্রায় সবাই কবি, হিরিক ওঠে লেখালেখির,
নেশার প্রতি টান বেড়ে যায়, ধার ধরে না টিআরপির।
নিজের ক্ষতে নিজেই মলম, নেই স্থান আহ্লাদের!
আবার এ দিল বিঘলে গেল, তোমায় দেখে ফের!
তারপর ঠিক সেটাই হলো, যা-যা হয় অন্যদের—
আমাদের লাজ বাড়ল, কাজ বাড়ল নিন্দুকের।
চোখে-চোখে চোখ আটকাল, বিট করল এ হৃদয়টা!
কবিতা-ছন্দে উঠল ভরে, কখনো না-লেখা ডায়েরিটা।
সামনে থাকলে সে, স্বর হারাত, থমকে থাকত সময়টা,
কথার মাঝেই ঘোর কেটে যেত, সজোরে দিলে চিমটিটা।
প্রতিশ্রুতির নরম স্পর্শ এঁকে, হাত রাখা এ শূন্য হাতে,
আদর, আবদার, খুনসুটি সব থাকত জমে আয়নাতে।
দুঃখগুলোর ভাগ চাওয়া, থাকতে চাওয়া একসাথে—
তারপরে ঠিক ঝড় এসেছে, বছর কেটেছে অপেক্ষাতে।
অতীতগুলোয় জমলে ধুলো, মনে রাখার কী দরকার?
কষতে নিলে ভুলের হিসেব, মিটার ছোঁবে লক্ষ-হাজার।
মিষ্টিকণ্ঠে ঠিক এভাবে, টোপ গিলে মাছ—জলের বাহার,
ভালোবাসা গভীর হলেই, বিচ্ছেদই যে হয় পুরস্কার!
বন্ধ দ্বারে ধাক্কা দিলে, এখন সস্তাতে এ মন খুলবে না,
কান্না করে ভাসিয়ে দিলেও, পাথর এ দিল, গলবে না।
প্রতিশ্রুতি তো কথার কথা, সহজে চিঁড়ে ভিজবে না—
বেহায়া এ মন বুঝে গেছে, প্রেম মানে মিঠে যন্ত্রণা!
~ হা বী ব
© 2026

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন