""স্মৃতির রেহেল ও নূরের ধুলো""
ভোরের কুয়াশা চিরে যখন শহর জাগেনি ঠিকঠাক,
তখনই এ আঙিনায় ডানা মেলে এক পবিত্র ঝাঁক।
কাঠের রেহেলে খোলা থাকে চিরন্তন মহাসমুদ্রের পাতা,
সেখানে ডুব দিয়ে একাকার হয় ভাঙা মন আর ছেঁড়া খাতা।
এখানে আলো মানে কোনো প্রদীপের শিখা নয়,
এখানে আলো মানে অন্তরে জ্বলে ওঠা এক মহাসংশয়-হীন প্রত্যয়।
শুভ্র পাঞ্জাবির হাতা বেয়ে ঝরে পড়ে ওজুর জল,
সে যেন এক-একটি মুক্তো, পুণ্যতায় টলমল।
মাদরাসার দেয়ালগুলো কোনো ইট-পাথরের খাঁচা নয়,
ওরা তো রাত জেগে শোনে কত দীর্ঘশ্বাস আর কান্নার জয়।
নিশুতি রাতে যখন পুরো দুনিয়া মগ্ন ঘুমে,
তখন কিছু সিজদা গিয়ে পরম তৃপ্তিতে আসমানকে চুমে।
এখানে তরুণেরা শুধু ব্যাকরণ আর কিতাব শেখে না,
তারা শেখে কীভাবে পৃথিবীর মোহে নিজেকে বিলিয়ে না দেওয়া।
বুকপকেটে লুকিয়ে রাখা এক টুকরো মিসওয়াক আর তসবিহর দানা,
মনে করিয়ে দেয়—এ মাটির পৃথিবীটাই শেষ সীমানা না।
ধুলোবালিমাখা চটি জুতো আর ছেঁড়া মাদুরেই যার সুখ,
তার কাছেই তো সঁপে দেওয়া যায় মর্ত্যের যত অসুখ।
হে আলোর বাতিঘর, তুমি অক্ষয় হও এই বাংলায়,
মানুষ বেঁচে থাকুক তোমার ওই স্নিগ্ধ সুন্নাহর ছায়ায়।

কলমে,,,, হুছাইন আহমাদ
16/6/26ইং