গ্রন্থ — পৃথিবীর স্তন বেঁয়ে দুঃখ ঝরে

ভূমিকা—

কবিতা—এখানে শুধু শব্দ নয়, দায়-নথি।

প্রতিটি পঙ্‌ক্তি যেন একটি সাক্ষ্য, প্রতিটি খণ্ড এক ফাইল: ভালোবাসা নিজেই যে কখনো অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়, শহর যে আলো দেয় না — কেবল ধোঁয়া ও ভুলে যাওয়া মুখ জমে, ক্ষুধা কেবল এক খালি থালাই থেকে আসে। এই বইতে প্রেম কখনো পুষ্প নয়; তা ছিন্ন, রক্তাক্ত, অনুশোচনায় ভরা — আর ভাষা কখনো মুক্তির হাতিয়ার নয়; তা হয়ে ওঠে একটি অনুমোদন-ফর্ম, একটি লাইসেন্স, কখনো একটি করবক্স।

আপনি এখানে নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন না। আপনি হবেন সাক্ষী, কখনো অভিযুক্ত, আবার কখনো হয়ে উঠবেন নিজেই কবি—কারণ এই পংক্তিগুলো আপনাকে প্রশ্ন করবে, আপনার নীরবতাকে জিজ্ঞাসা করবে, আপনার স্মৃতিকে নথিভুক্ত করবে। রাষ্ট্র, প্রযুক্তি, শরীর, স্মৃতি, প্রেম—সবই এখানে একই টেবিলে বিচার করতে বসে; আর চায়ের কাপে নেড়ে ফেলে আমাদের অস্তিত্ব।

এই গ্রন্থ বিদ্রোহী; কিন্তু তা কেবল একটি বাহ্যিক বন্দুকধারীর বিরুদ্ধে নয়—এটি নিজের ভেতরের ভণ্ডামি, অভিমান ও অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ। এখানে আয়না আছে, যেখানে আপনি নিজেকে দেখে চিনবেন না; আগুন আছে, যা আপনার পুরনো বিশ্বাস ও ধারনাগুলো জ্বালিয়ে ছাই করে দেবে। তবু, এ বইয়ের শব্দগুলিতে আশা লুকায়—প্রশ্ন যত কাল বেঁচে থাকবে, কবিতা ততকালজয়ী থাকবে।

এই কাব্যগ্রন্থ তাই কেবল একজন লেখকের নয়; এটি সময়ের, পাঠকের এবং ভবিষ্যতের আত্মজীবনী — এক অম্লান মানচিত্র, যা বার বার খোলা হবে, বার বার বিচার করবে, এবং বার বার বেঁচে থাকবে।

— কাজী অ্যাডাম

৫ বার পঠিত রিপোর্ট

এই বইয়ের অন্তর্ভুক্ত লেখাসমূহ...

মন্তব্য করুন

লেখকের অন্যান্য প্রকাশনা