১
দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার!!
২
তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান!
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
ইহাদের পথে, নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার!!
৩
অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানেনা সন্তরণ,
কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তিপণ!
“হিন্দু না ওরা মুসলিম?” ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?
কান্ডারী! বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা’র!
৪
গিরি-সংকট, ভীরু যাত্রীরা, গুরু গরজায় বাজ,
পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ
কান্ডারী! তুমি ভূলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ?
‘করে হানাহানি, তবু চল টানি’, নিয়াছ যে মহাভার!
৫
কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর,
বাঙ্গালীর খুনে লাল হ’ল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পুনর্বার।
৬
ফাঁসির মঞ্চে যারা গেয়ে গেল জীবনের জয়গান,
আসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান?
আজি পরীক্ষা জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রান?
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুঁশিয়ার!
কবিতা — কাণ্ডারী হুঁশিয়ার, (দুর্গম গিরি – কান্তার-মরু – দুস্তর পারাবার হে)
শনিবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বিদ্রোহী-দ্রোহের কবিতা
আবৃত্তিতে:
মাহবুবুর রহমান টুনু
৪৪২৭
এআই বিশ্লেষণ (মূলভাব)
'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কালজয়ী চেতনার কবিতা। এখানে কবি পরাধীন ভারতের সংকটময় মুহূর্তে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে মানবতাকে প্রাধান্য দেওয়া এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের মূলমন্ত্রই এই কবিতার মূল উপজীব্য। কাণ্ডারী বা নেতাকে সতর্কতার সাথে চরম বাধা পার হয়ে জাতিকে মুক্তির পথে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান প্রকাশ পেয়েছে।
অনুসন্ধান করুন
🎂 আজ যাদের জন্মদিন
মাকিদ হায়দার
শুভ জন্মদিন! 🎈