রাত্রির প্রেমে
ডুবে আছি


রাত্রি আজ আকাশ নয়,
আকাশেরও পূর্বপুরুষ।
তার কালো শাড়ির ভাঁজে লুকিয়ে আছে মৃত গ্যালাক্সির ধুলো,
অজাত নক্ষত্রের স্বপ্ন,
আর মহাবিশ্বের প্রথম দীর্ঘশ্বাস।

যখন আমি তার চোখের দিকে তাকাই, দেখি না কোনো মানুষের বিষণ্নতা, দেখি কৃষ্ণগহ্বরের গভীর নিঃসঙ্গতা।
যেন কোটি কোটি বছর ধরে সে একাই বহন করে চলেছে আলোর সমস্ত নির্বাসন।

রাত্রি কথা বলে না, তার নীরবতাই কথা বলে।
সেই নীরবতার ভেতর আমি শুনতে পাই সুপারনোভার বিস্ফোরণ,
বিলুপ্ত নক্ষত্রের আর্তনাদ,
আর নতুন সূর্যের গর্ভধারণ।

তার চুল বেয়ে ঝরে পড়ে নীহারিকার নীল অগ্নি,
তার নিশ্বাসে ভেসে আসে অনন্তের ঠান্ডা গন্ধ।
সে যেন সময়েরও বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক রহস্যময় দেবী,
যার এক চোখে সৃষ্টি, অন্য চোখে প্রলয়।

রাত্রি বলেছিল,
"মানুষের সাম্রাজ্য দেখে বিস্মিত হয়ো না।
আমি দেখেছি নক্ষত্রের সাম্রাজ্যও ধুলো হয়ে যেতে।
আমি দেখেছি সূর্যের চেয়েও বৃহৎ অহংকার
অন্ধকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।"

ঠিক তখন নজরুলের বিদ্রোহ আর শুধু মানুষের বিদ্রোহ থাকে না,
তা হয়ে ওঠে নক্ষত্রের বিদ্রোহ, মহাজাগতিক ন্যায়ের বজ্রধ্বনি।

আর ডুয়ার্সের নদীকে হঠাৎ মনে হয় আকাশগঙ্গারই কোনো হারানো শাখা, যার জলে বয়ে চলেছে যুগে যুগে নিপীড়িত মানুষের স্বপ্ন।

রাত্রিরা হাতের
স্পর্শে আমি অনুভব করি কোটি বছরের অন্ধকার,
কোটি বছরের প্রেম,
কোটি বছরের প্রতীক্ষা।

তারপর জীবনানন্দের অন্ধকার ভেদ করে যে লাল ভোর আসে,
সে কোনো দিনের সূর্যোদয় নয়,
সে মহাবিশ্বের হৃদয়ে ন্যায়বিচারের নতুন নক্ষত্রের জন্ম।
............ ........