সৃষ্টির শপথ ও আত্মার সাক্ষ্য
সোহাইল আল হাবিব
সূর্য যখন আগুনের অর্ঘ্য হয়ে আকাশে জ্বলে,
চাঁদ যখন স্নিগ্ধ শীতলতায় রাতকে ঢেকে দেয়— তখনও তারা আল্লাহর শপথ বহন করে।
তারা সাক্ষী দেয় সেই মহাজাগতিক চুক্তির,
যেখানে প্রতিটি রশ্মি, প্রতিটি ছায়া বলে!
তুমি এক সৃষ্টির সন্তান, যাকে আল্লাহ দিয়েছেন বুঝবার দীপ্তি, চিনবার আলো।
দিন-রাত,আকাশ-পৃথিবী — সব এক একটি জ্ঞানের দরজা।
আত্মা সেই দরজার চাবি, যা খুললে দেখা যায় নিজের ভিতরে থাকা আলো আর অন্ধকারের যুদ্ধ।
যে নিজের সাথে শুদ্ধ করে, সে যেন রাত্রির বুক চিরে ফোটা সুবহের প্রথম আলো;
সে সফল, কারণ সে বেছে নিয়েছে আত্মার মুক্তি।
আর যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ডুবে যায় এক অন্ধ গভীর কূপে,
যেখানে নিজের প্রতিচ্ছবিও ভয়ে মুখ লুকায়।
সামুদ জাতি ছিল শক্তিশালী, দাম্ভিক, কিন্তু অন্ধ।
তারা আল্লাহর অলৌকিক নিদর্শন সালেহ (আ.) এর উটনীকে হত্যা করে চিরন্তন গর্জনে নিমজ্জিত হয়।
সে গর্জন ছিল শুধুই ধ্বনি নয়, ছিল এক আসমানি আদালতের রায়,
যেখানে দম্ভ পুড়েছে ছাই হয়ে।
তাদের ইতিহাস নয়, তারা এক জীবন্ত সতর্কবার্তা।
সৃষ্টির প্রতিটি নিদর্শন, আত্মার প্রতিটি স্পন্দন বলে যায়
যে আলোর দিকে হাঁটে, সেই মুক্ত।
যে অন্ধকারে শয়তানের হাত ধরে, সে ধ্বংসের পূর্বাভাস।
এই শপথের শব্দে, এই অলৌকিক মুগ্ধতায়,
মানুষ ফিরে তাকায় তার অন্তরে —
আর খুঁজে পায় সেই পথ, যেটা সৃষ্টিকর্তার দিকে নিয়ে যায় নিঃশব্দে, দীপ্তিতে, আত্মার পূর্ণতায়।
কাব্যগ্রন্থ : অতিরিক্ত চোখের দ্যূতি

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন