তুই তুকারির সম্পর্ক ছিলো আমাদের। ও আমাদের পড়ায় এক মাত্র মেয়ে। তাই আমাদের সাথেই আড্ডা মারতো। ওর ছেলের প্যান্ট সার্ট পরেই, ছেলেদের মতো ই ক্রিকেট খেলতো আমাদের সাথে। কিন্তু স্বরস্বতী পূজার দিন একটা নীল শাড়ি পড়ে ছিলো। পেট বেড় করে রেখেছিলো অনেকটা। ওর চেহারা টা সুপারি গাছের মতো ছিপ ছিপে, পাতলা ফর্সা পেট তাঁর ওপর গভীর নাভী। শুধু পেটের ওপর চোখ আটকে গেছিলো তাই নয়। ব্লাউজ পড়াতে আমি প্রথম ওর মধ্যে আবিষ্কার করলাম একটা যৌবন সুন্দরী মেয়েকে। কাজল চোখে ওর মায়াবী বাদামি চোখ, সুন্দর গোলাপি রসালো ঠোঁট। আমাকে পাগল করে দিয়েছিল। বেশি অপেক্ষা না করে। বিকাল বেলায় ওকে প্রোপোজ করে বসলাম।
আমাকে ও না করে দিলে হয়তো কিছুটা কষ্ট পেতাম কিন্তু পরে ঠিক হয়ে যেতো সব কিছু। কিন্তু ও আমাকে খুব অপমান করেছিলো। বলেছিলো ও বড়লোকের মেয়ে তার উপর সুন্দরী। আমার মতো ভ্যাবলা ক্লান্তের সাহস কি করে হলো ওকে প্রেমের প্রস্তাব দিই। ও বলে ছিলো আমাকে জুতো পেটা করবে। ঐ কথা শোনার পর আমি, আর ছায়া মারাই নি।
তবে ও নানা ওজুহাতে আমার বাড়ি আসতো, বোনের সাথে গল্প করতো। আমার সাথে কথা বলতো। আমি হ্যা হু করে এরিয়ে যেতাম। আমরা সত্য খুব গরীব। তবে আমদের একটা সময় অভিজাত ছিলাম। তাই সংস্কার শিক্ষা দীক্ষা আমরাও কম নয়। তবে বোনেকে একটু ভালো করে পড়াশোনা করাতে। আমি শহর গিয়ে একটা চাকরিতে যোগ দিলাম আর নাইট কলেজ ভর্তি হলাম। তাই ওর সাথে দূরত্ব বেড়েই গেলো।
তবে আমার আর মিমির জন্ম দিনটা কিন্তু একই দিনে। যদিও আমার জন্মদিন আমি কোন দিন পালন করি না। ছাদের উপর দাঁড়িয়ে ছিলাম একাই।
হঠাৎ করে ও এসে বললো ” হ্যাপি বার্থ ডে । এই নে কেক খা। ”
আমি এরিয়ে চলে যেতে যাচ্ছিলাম। ও হাতটা চেপে ধরলো। বললো ” কিরে কেক খাবি না ঠিক আছে। কিন্তু আমাকে উইস করলি না কেন? ”
আমি অগত্যা বললাম “হ্যাপি বার্থ ডে”
ও বললো ” তোকে আমি ভালো বন্ধু ভাবতাম। তুই এতোটা স্বার্থপর । তোকে না করে দিয়েছি বলে কথা বলা বন্ধ করে দিবি। প্লিজ আগের মতো বন্ধু হয়ে যা। একটা হ্যাগ কর। ”
আমি কিছু বলার আগে একটা টাইট হ্যাগ করলো। তারপর বললো “আজ থেকে তাহলে ভাব হয়ে গেলো। ”
আমি আবার সম্পর্ক টা সাভাবিক আনার চেষ্টা করলাম। তারপর নিয়মিত কথা হতে থাকলো। ওকে কলজে ভর্তি ব্যাপারে আমি সাহায্য করে করলাম। হাতে মুঠো ফোন এলো। ফলে দূরত্ব যতোই থাকুক কথা হতো। বছর পাঁচ পর হঠাৎই মেসেজ, তারাহুরো করে বিয়ে ঠিক হয়েছে আমার। তুই তারাতারি আয়। আমার বিয়ে তোকে থাকতেই হবে। বিয়েতে তুই নিয়ে যাবি আমাকে। আমাকে পিড়ি টা তুই বইবি। চাগিয়ে অনেকটা তুলবি বর থেকে উচু তে তুলবি। যাতে বর সব সময় আমার কথায় চলে। ”
ইচ্ছে ছিলো না তবুও হাজির হলাম। আমার আর ওর বাড়ির পাশাপাশি ছিলো। আমি বাড়ি যেতে যেতে সন্ধ্যা হয় গেছিলো। আমার বাড়ি থুকতেই ইচ্ছা করছিলো না। কারণ আমার বাড়িটাও সাজানো হয়েছে লাইট দিয়ে। ঘর ধুকতেই। বৌদি বকাবকি করলো। টুম্পা ঘরে মেয়ে ওর বিয়েতে অতো দেরি করে আসলাম কেন?? আমি কিছু বলার আগেই বোন বললো ” আর একটু দেরি করলে মেয়েটাতো লগ্ন ভ্রষ্ট হয়ে যেতো। ”
দাদা বললো। তাড়াতাড়ি পেন্ট জামা ছেড়ে ধুতি পর লগন তো বয়ে গেলো। ”
সব কিছু মাথার উপর দিয়ে চলে যাচ্ছিলো। পরে বুঝতে পারলাম। ও মিথ্যা কথা আমাকে ডেকে এনেছে। বিয়েটা আসলে আমাকে ও করছে।
বিশেষ দিনে কোন ঝামেলা করতে চাইলাম না। তবে ও না বললে আমি বুঝতে পারলাম ও যদি আমাকে অপমান করতো, আজ তাহলে হয়তো আমি সফল হতে পারতাম না। কারণ ওকে পাওয়াটা আমার সব পাওয়ার মতো ছিলো।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন