চাঁদ আলোপথ
চাঁদ আলোপথ
মানব মন্ডল

গল্প - চাঁদ আলোপথ

মানব মন্ডল
মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ ভালোবাসা

এভাবে কি চাইলেই পালানো যায়??  আমার কোন কথা বুঝতে চাইলো না ও। কলেজের শেষ ক্লাসটা না করেই চলে এলাম। কাল রাতে আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছে। এমনকি আমার জাত তুলেও কথা বলেছে সবচেয়ে খারাপ লেগেছে ওর শেষের কথা গুলো। ও বললো কিভাবে ঐ কথা গুলো আমি বুঝতে পারলাম না।
ও বললো ” ভালোবাসা নাম করে তোদের মতো ছেলেরা শুধু শরীরের ওম নিতে পারে, দায়িত্ব নেওয়া কথা হলেই পালায়, ধর্ম, ভাষা, জাত পাত, কতো বাহনা চলে আসে। ”
মিমি অসহায়। আমিও অসহায়,তবুওকে একা ছাড়তে পারি না। তাই স্কুলে গেটের কিছু দূরে দাড়িয়ে থাকলাম। ও স্কুল থেকে বেড়িয়ে নদীর দিকে ছুটতে থাকলো নদীর পাড়ে  দিকে প্রানপনে । আমার বুকে অজানা ভয় বাসা বাধলো। পিছু নিলাম ওর।
ও সত্যিই অসহায়। কিন্তু ওকে নিয়ে আমি কোথায় পালাবো ? আমার চাকরি বাকরি পেতে হয়তো অসুবিধা হবেনা। কিন্তু ওর আঠারো হবে আরো দুই মাস পর। আমার বন্ধু কাম দাদা আমার কলেজের প্রফেসর রাহুল স্যারকে আমাদের গল্পটা বলেছি উনি আমাকে একটাই কথা বলেছেন। যেহেতু ওর আঠারো হয় নি তাই আমি ওকে নিয়ে পালালে। ওরা আমাকে জেল খাটতে পারে ওকে কিডন্যাপ করেছি বলে।

আমি তাই অসহায়। কিন্তু আমার চেয়ে ও আরো বেশি অসহায়। আজ ওদের বাড়িতে উৎসবের মেজাজ। কিন্তু ও খুশি নয়। আলি দা বাড়ি ফিরছে। ওর কাকার ছেলে। লোক টাকে কয়েকটি বছর আগে মিমি কোলে করে নিয়ে ঘুরতো। আজ তিন বছর আগে ওনার মতিভ্রম হয়েছে।  নিজের বৌ থাকতেও উনি। মিমিকে সেইদিন ধর্ষণ করেছিলো।  সবাই ঘটনাটা জানে। কিন্তু এ পাড়ার কোন লোকের সাহস নেই ওনার এই কুকর্মের প্রতিবাদ করে। সারা বৌদি প্রতিবাদ করেছিলো  তাই সাথে সাথে সারা বৌদি তালাক দিয়ে আলি ভাই ঘোষণা করেই দিয়েছিলো মিমিকে ও বিয়ে করবে। তারপর আবার ইউরোপে চলে যায়। আমি এতো বছর মিমিকে বুঝিয়ে ছিলাম ইউরোপ মেয়েদের স্বাধীনতা অনেক বেশি। তাই আলি ভাই  কোন না কোন ইউরোপীয় মেয়েকে বিয়ে করে নেবে। আর দেশে ফিরবে না। কিন্তু সেটা হলো না। মিমিকে বিয়ে করতে উনি দেশে ফিরছে।

আলি ভাইরে সিদ্ধান্ত বিরুদ্ধে কেউ কথাবলার সাহস পায় না। ওরা এ অঞ্চলের জমিদার ছিলো। জমিদারি যাওয়া পর হাতে পরে থাকা জমি গুলো লোকজনকে দিয়ে চাষ করিয়ে ওর বাপ দাদার দাবা, তাস খেলে দিন কাটিয়েছেন। ফলে ধীরে ধীরে সব সম্পদ শেষ।আলি ভাই ও বাড়ির প্রথম আর বংশের একমাত্র ছেলে যে চাকরি করতে বাড়ির বাইরে পা ফেলেছিলো আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে। মাত্র পোনের বছর বয়সে। মিমিদের সংসার টাও ওর টাকায় চলে। ফলে কে প্রতিবাদ করবে?? কিন্তু বয়সে প্রায় 23 বছরের বড় একটা লোকে বিয়ে করতে চায় না মিমি।
হঠাৎ একটা ব্যান্ড নিউ গাড়ি বিশ্রীভাবে মিমির গা ঘেঁষে গিয়ে। কিছুটা দুরের গিয়ে দাঁড়াতে গিয়ে  দাঁড়ালো। মিমি পড়ে গেলো। আমি ওকে তুলতে ছুটে গেলাম। ওর বেশি কিছু ওর পায়ের মোচকে গেছে বললো।
গাড়িটা ব্যাক করে এসে দাঁড়ালো আমাদের পাশে।গাড়ি থেকে নেমেই আমাকে মারতে যাচ্ছিলো আলি ভাই। ভাগিস রহমান চাচা ছিলো। ও আমার পরিচয় দিলো। আলি ভাই আমাকে চেনে। আপাত্ত ও বাড়ির সব ছেলে মেয়ের গৃহশিক্ষক আমি। আলি ভাই মিমি বললো” আমি তোকে নিতে যাতেই স্কুলের সামনে এসেছিলাম তুই নদীর পারে দিকে যাচ্ছিস করা জন্য। এই পথের ধুলো কাদা মাখা অবস্থায় আমার গাড়িতে তোকে তুলবো না তুই তারাতারি বাড়ি আয়। ”
আমি বললাম ” আলি ভাই আপনি চিন্তা করো না। আমি ওকে পৌছে দেবো। ”
মিমির কোথায় আঘাত লেগেছে দেখতে চাইলাম ও দেখতে দিলো না। ওর অভিমান সাভাবিক। সাইকেল উঠতে চাইছিলো না। আমি মনে করিয়ে দিলাম আলি ভাই ওকে তারাতারি বাড়ি ফিরতে বলেছে। ও ভয়ে সাইকেল উঠলো। সারা রাস্তা আমি ওকে অনেক কথা বললাম। ওশুধুমাত্র একটা কথা বললো” এ বিয়েটা করতে আমি চাই না। আমি আত্মহত্যা করবো কিন্তু এ লোকটা আমি স্বামী হিসাবে মেনে নেবো না। ”
বাড়িতে ঢুকতেই। মিমির অবস্থা দেখে মিমিকে সবাই ঘিরে ধরলো। সবাই ওকে জিজ্ঞাসা করলো ওর এরকম অবস্থা কি করে হলো। আলি ভাই উত্তর দিলো ” ষাড়ে গুতো দিয়েছে । সবাই ওকে নিয়ে আদিখ্যেতা দেখানোর দরকার নেই , ওকে গোসল করতে যেতে দাও। অনেক কাজ আছে তোমারা সে গুলো করো। আমি মাত্র কুড়ি দিনের ছুটি এসেছি ভুলে যেও না। কাল গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হবে।”
আমি নীরবে চলে যেতে যাচ্ছিলাম। আলি ভাই বললো ” এই নাপিতে পো তুই কোথায় যাচ্ছিস। তুই নাকি পড়াশোনা ভালো। বাজার হাট তোকে করতে হবে। হিসাব নিকাশ তুই ভালো রহমান বলছিলো। আমার সাথে তুই থাকবি। ”
আমি জানি রহমান আমার আর মিমি সম্পর্কে কথা হয়তো এতোক্ষণ ওর কানে তুলে দিয়েছিলো।
মিমিকে আমি তিন চার বছর ধরেই ভালোবাসি। ও সেইদিন জেদ করে আমাকে বলেছিলো পাঞ্জাবি পরতে, ও প্রথম শাড়ি পরেছিলো। শ্রাবণে প্রথম বৃষ্টিতে ও আমি একসাথে ভিজবো ঠিক করেছিলাম ঠিক যেমন করে সিনেমা নাটকে নায়ক নায়িকার ভেজে। ওদের ছাদে আমি ছোট টেপ রেকর্ডারে কিছু রোমান্টিক গান চালিয়ে আমরা নাচ ছিলাম। হঠাৎ দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে আমি লুকিয়ে পরে ছিলাম। ওকে ভেজা শরীরের দিকে আলি ভাই অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলো। তখন কিছু বলেনি। কিন্তু দুই দিন পর একদিন মিমি স্কুলে এলোনা। কানা ঘুসোতে শুনলাম আলি ভাই ওকে ধর্ষণ করেছে।
স্নান করে মিমি মিমির ঘর ঢুকেছে দেখেই। আলি ভাই তাড়াতাড়ি নিচ থেকে ওপরে তলায় চলে গেলো। ও মিমির ঘরে ঢুকছে  দেখে নিজকে, সামালেতে পারলাম না আমি ও। আমি ও ওপরে চলে গেলাম।ঘরের বাইরে থেকে মিমি আর্তনাদ শুনতে পেলাম। বিছানায় ফেলে ও জোরজবরদস্তি ওর ওপর ঝাপিয়ে পরেছে সে সময় আমি ঘরে ঢুকলাম। আমরা ওপর উনি চোটে গেলো। কিন্তু কিছু করতে পারলো না কারণ। ওর মেয়ে  জারাও প্রায় আমার সাথে সাথে ঢুকলো ঘরে আর বললো
” নানি মিমিকে খেতে ডাকছে , মিমি তারতারি আয়। বুবাই ভাইয়া তুমি ও এসো। ”
খাওয়া দাওয়া শেষ জারা আমাদের বললো ‘ মা তোমাদের শহরে একটা থাকার ব্যাবস্থা করে রেখেছে। যদি আব্বুর হাত থেকে বাঁচাতে চাও। আজ পালাও। ”
আমি শুনেছি মেট্রো শহর গুলোতে, পেটের জ্বালাটা  বড়ো। ঐ জ্বালা মেটাতে লোকজন এতো ব্যাস্ত  , মানুষের ধর্মীয় পরিচয় জানতে ভুলে যায়। মানুষ শুরু সংখ্যা হয়ে বেঁচে থাকে ওখানে। তাই আমি রাজী হয়ে গেলাম। ঢাঁদের আলোর দেখানো পথ ধরে বেরিয়ে এলাম আমরা, শহরের অন্ধকারে হারিয়ে যাবার ভয় থাকলো যদিও বুকের ভিতর।

পরে পড়বো
৮১
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন