মানব মন্ডল

গল্প - ঘর সংসার

মানব মন্ডল
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ জীবনবাদী, ভালোবাসা

আজকালকার যুগে এই রকম ছেলেই হয় না। সাত চড়ে রা না কাটা এমন গো বেচারা ছেলেকে দেখে সবাই এর সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক। বড়লোক বাড়ির ছেলে হলেই তো হয় না। এই রকম ভাজা মাছটি উল্টে খেতে না পারা ছেলেকে কোন মেয়ে আর বিয়ে করবে। তাই গোটা শহরের প্রিয় সব মেয়ের বাড়ি থেকেই বাতিল হয়ে। গ্রামের মেয়ে দেখতে গেলেন রামলালা বাবু।

এখানেও ব্যার্থ হবেন ধরে নিয়েছিলেন রামলাল বাবু। শালা বাবু চন্দনকে একটি মিষ্টি খেতে দিলেন না উনি।ছবিতেই দেখেছিলেন মিষ্টি মেয়ে। এখানে এসে শুনলেন। বাড়ির এক মেয়ে , কলকাতা শহর এসে একা পড়াশোনা করে বিএ, এমে, বিয়েট, পাশ করে , বাড়িতে এসেছে মাত্র দুই ত
তিন মাস। ঠাকুর মায়ের জেদা জেদীতে , মেয়েকে প্রথম বার কোন ছেলে দেখতে এলো বাড়িতে। তাই এখানে উনার ডাল ভিজবে না সেটা বুঝতে পেরেছিলেন রাম বাবু।
পাত্রী দেখার সময় আরো অঘটন। প্রথা ভেঙে পাত্রী এলো সাধারণ পোশাকে, এক সাধারণ শাড়ি পরে।যুক্তি খুব সাধারণ, সে যেমন তেমন পছন্দ করতে হবে। পাত্র পক্ষের সাথে জমিয়ে আড্ডা দিলো মেয়ে।

রামলালা বাবু সম্পর্কে লোক জন বলে। রামবাবু নাকি গরুর গোবর দেখে বলে দেন গরু কোন কোন ক্ষেতে চড়া খেয়ে এসেছে। মেয়েটিকে পচ্ছন্দ হল উনার।
চন্দন মেয়েকে প্রশ্ন করলেন। ” ছেলেকে পচ্ছন্দ হয়েছে কিনা।”
অর্পিতা বললো ” যদি নিজের পচ্ছন্দকে গুরুত্ব দেবার ইচ্ছা থাকতো তাহলে। ও কলেজ ইউনিভার্সিটিতেই পচ্ছন্দের মানুষ খুজে নিতাম। বাড়ির সংস্কারকে সম্মান জানিয়ে বলছি মা বাবার সিদ্ধান্ত শেষ কথা।”
কলেজ ইউনিভার্সিটিতে খুচরো প্রেম স্বাদ পেয়েছিলো অনির্বাণ। কিন্ত তার সহজ সরলতা জন্য তার জীবনে প্রেম স্থায়ী হয়ে নি। শেষ মেশ তার জীবনে বিয়ের ফুল ফুটলো। এবং এক সমুদ্র প্রেম নিয়ে এলো অর্পিতা।

রামলাল দেখলো অর্পিতার প্রেমে ছেলে সত্যিই হাবুডুবো খাচ্ছে। নয়তো এই অবস্থায় বৌকে স্কুল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় বসানোর জিদ ধরে তাঁদের বিরোধী হয়।
অর্পিতা রামলাল আর স্ত্রী সারদামনির খুব প্রিয় পাত্রী। বৌমা হিসাবে লক্ষ্মী মেয়ে সংসার সামলে , ব্যাবসা সহ সব কিছুই করে। আজ জীবনে প্রথম বার কিছু চাইলো আকুতিসহ মেয়েটি। রামলাল হৃদয়ে কাঁদছে ওকে অনুমতি দিতে ।
রাজ্যে দুর্নীতিগ্রস্ত নয় বছর পরীক্ষা হলো শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। আসলে সরকারে থাকা দলটি জানে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধংস করতে পারলেই তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে চিরকাল। তাই টাকার বিনিময়ে বিক্রি হলো চাকুরী। হলো , প্রতিবাদ । হলো তদন্ত , বিচারালয়ের নির্দেশে আবার নেওয়া হলো। পরীক্ষা।
অর্পিতা কিন্ত স্কুল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় পাশ করেছিলো গতবারের পরীক্ষায়। কিন্ত সে যোগ্য হয়েও কলঙ্কিত সবার ধারণা সেও চাকুরী কিনেছে। তাই নিজেকে প্রমাণ করতে পরীক্ষা দিতে চায়।
সব কিছুই ঠিক ছিলো। কিন্ত সে গর্ভবতী তাই তার পরীক্ষা দেওয়ার অবদার মানতে পারলো না রামলাল। কিন্ত অর্পিতার করুণ মুখের পানে চেয়ে অনুমতি দিলেন রামলাল।
রামলাল দয়াল মনে পরিচয় দিলেও ঈশ্বর নিষ্ঠুর। অঘটন ঘটল অর্পিতার সাথে।সারদামনির ভীষণ আঘাত পেয়ে বলেন অর্পিতার মুখ দর্শন করবেন। সন্তানহারা অর্পিতা অভিমানী সবার থেকে লুকিয়ে ফেললো নিজেকে। অনির্বাণ হারিয়ে ফেললো, খাটী ভালোবাসাটুকু।

পরে পড়বো
১০
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন