মানব মন্ডল

গল্প - থাকবো ঝোলে ভাতে

মানব মন্ডল
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ জীবনবাদী, ভালোবাসা

” বেবি ও তোমাকে 7 টাকা 25 পয়সা , রিফান্ড করেছিলো। তুমি ওক আবার 104 টাকা পাঠালে কেন? ”
খুব গম্ভীর ভাবে, চুল আচাড়তে আচড়তে শুভ বললো ” ইস, আমার চুল গুলো সাদা হয়ে যাচ্ছে। তোমার সাথে বেড়ালে এখন, সবাই বলবে, দাদু নাতিনি যাচ্ছে।”
পিউ বললো, “বেবি কথা ঘুড়িও না। কেন পাঠালে। যেচে পরে ঝগড়া করবে বলেই তো। ডিসগাসটিং।”
পিউ কে জরিয়ে ধরে , শুভ একটু সোহাগ করে বললো। ” বেবি রাগ করো না। ফোন তোমার হাতে । কারণ টা এখুনি জানতে পেরে যাবে।”
মেসেজ নটিফিকেশান এলো। ” 104টাকা রিফান্ড এলো।”
What app কয়েকটি মেসেজ এলো। ছোট ছোট
বার্তায় লেখা আছে অনেক কথা” আমি কিন্ত বাবুর পড়াশোনার খরচ আপানার কাছে চাই নি। আপনি আদালতে গিয়েছিলেন ওর ওপর পিতৃত্বের দাবি নিয়ে। স্কুল account ভর্তির ফি পাঠাতেন। কিন্ত আপনি আমার account পাঠিয়েছেন। 10 আমার account টাকা ছিলো। তার সুদ রিফান্ড করেছি।
আমি যা বুঝলাম আপানি আমাকে বাবু সপিং করতে গিয়ে চকলেট খেয়েছে সেই পয়সা আর হাফ অটো ভাড়ার পয়সা দিয়েছেন। বাবুর জন্য ঐটুকু করার সামর্থ্য এবং অধিকার দুই আছে।”
শুভ একটু হাসলো। পিউ বললো ” বুলসিট, বেবি আমাদের বিয়ের আর দুই সপ্তাহ বাকি , মার্কেটিং যেতে হবে। তুমি আবার এখন ঝগড়া করতে যেওনা।”
শুভ বলল ” ওকে , ডিয়ার ঝগড়া করবো না,দাঁড়াও একটু। ”
শুভ তিতাসকে মেসেজ করলো।
” সামনের রবিবার বাবুকে নাকতালার পিজ্জা হাট নিয়ে যেতে চাই। আমার বাইকে যাবো, তোমার আপত্তি না থাকলে।আমি চাই তুমি যাও। কারণ নয়তো বলবে আমি বাবুকে নষ্ট করছি।বাবুকে বকাবকি করো না।আমি বলেছি ওকে পিজ্জা খাওয়াবো। তোমার কোন শর্ত থাকলে বললো।”
উত্তর এলো, ” আমার কোন শর্ত নেই। তবে বাইরের খাওয়ার খাওয়ানোর মতো পয়সা আমার নেই।থাকলেও আমি ওকে নিয়ে যাবো না। তাই ওর মধ্য কোন বড়লোকি চাল আসতে দিতে চাই না। আমি ওকে কখনও আপনার সাথে একা ছাড়বো না। একটু পয়সা মুখ দেখে আপনার অনেক বদল হয়েছে। আমি বাবুর ওপর আপনার কোন প্রভাব পরতে দেবো না। শর্ত একটাই বাইকের তেল থেকে জল যা বিল হবে , তার তিন ভাগ হবে এবং আর তার দেড় ভাগ আমি দেবো।”
শুভ হসে উত্তর দিলো।”না দুইভাগ আমি দেবো। কারণ বাবুর খরচটা আমার দেওয়া উচিত। কারণ পরে তুমি বলতেই পারো মাসের শেষ বাড়তি খরচ করি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমি তোমাকে বিপদে ফেলি।”
উত্তর এলো ” ওকে ডান”
উত্তরটা দেখে পিউ তেলে বেগুন জ্বলে উঠল। বিছানা ছেড়ে উঠল পোশাক বদলাতে বদলাতে বলতে থাকলো। ” আই সো ফুল, হোয়াই আই আম হেয়ার?? আমার সাথে উনি বিয়ে করবে, আর প্রাক্তন স্ত্রীর জন্মদিনে ,ছেলে বৌকে নিয়ে সেইখানে যাচ্ছেন , স্মৃতি মন্থন করতে। ফাক মি। হি মেকিং ড্রামা। আই আম সো স্টুপিড নাট আন্ডার স্ট্যান্ডা হি জ্যাস্ট প্লেই আ গেম। আমার এখানে থাকার কি দরকার আমি চলাম।”
শুভ ওকে বাধা দিলো না। কারণ ওর বুঝে ওর দ্বিতীয় বিয়ে করা হবে না আর।

পরে পড়বো
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন