তুলোর বালিশ অনেকদিন নেই, সোঁদালের ফুল রোদে শুকিয়ে
খোলে ভরে নিয়েছি।
সেই বালিশে শুয়ে দুপুরে তন্দ্রা মতো এল।
তন্দ্রার মধ্যে চিন্তা জড়িয়ে ওঠে
যেন তেপান্তরের মাঠে কাঁকুড়লতা আলগা মাটি ধরে ধরে এগোচ্ছে।
শাশুড়িমা যেন এখনও বেঁচে আছেন-
ধান সেদ্ধ করার সময় যেমন বলতেন, ডানের মতো, তেমনি যেন বলছেন-
এই ধান সব জ্যান্ত, অমর।
এইবার গরম জলে সেদ্ধ হয়ে মরবে।
মরা জিনিস ছাড়া মোদের মুখে কিছু রোচে না।
বালিশের সোঁদাল ফুল-বীজ জ্যান্ত। তন্দ্রার মধ্যে শিকড় চারিয়ে
আমার চারপাশে ঝটপট গাছ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।
মাথায় ঘন হয়ে ধরল ছায়া। সেই সোনা-হলদে ফুল
ফুটে উঠল স্তবকে স্তবকে, ঝরে পড়তে থাকল
বিছানায়, আমার গায়ে।
জেগে উঠে দেখি, সন্ধ্যা উতরে গেছে। কোথায় কে!
স্বামীপুত খেয়ে বসে আছি।
অনাথা বিধবা। জ্যান্ত মরা সবই খাই।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন