মণীন্দ্র গুপ্ত

কবিতা - বনবাসী আত্না

মণীন্দ্র গুপ্ত
রবিবার, ০৩ আগস্ট ২০২৫ বিবিধ কবিতা

কোনো বনবাসী আত্না সেদিন রাত্তিরে নেমেছিলো আমাদের ছাদে।

আমি স্থির হয়ে থাকতে পারি নি। ঝুঁকে পড়েছিল এক গভীর জঙ্গল—

গাঢ়মূর্তি গাছের কল্লোল-ছায়া ফিসফাস করছিল কবাটে গরাদে

অপদেবতার মতো। তৃষ্ণার্ত ঝাঁজালো বায়ু বয়ে গিয়েছিল

ঈশানে নৈঋতে।

জন্মর্থী প্রাণের দল সদ্য নরকের থেকে এসে সেইখানে

আলোর আড়ালে যেন ভূমি পেয়েছিলো জন্মবার।

আমি স্থির থাকতে পারি নি— আসক্তির মতো এক অমঙ্গল

আমারও গহন টুঁটি টিপে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো ছাদে।

সেই বনবাসী আত্না প্রকৃতিত সাংঘাতিক সম্রাটের মতো

রাজাজ্ঞা শুনিয়েছিল গমগম নিঃশব্দ আকাশে।

কোনো মেসোজাইক ডাইনোসর অদ্ভুত আওয়াজ ক’রে

লালাসিক্ত ফাটা জিভে চেটে নিয়েছিল আমাদের কিম্ভুত পোশাক।

আমি শঙ্কা ও সভ্যতা ভুলে, সেই ঘন গভীর আরাবে ভরে গিয়ে

যা-কিছু চিন্ময় ছিল সব দিয়ে— মৃন্ময় প্রাণের অন্ধ মূলে

সাষ্টাঙ্গ হলাম।

পরে পড়বো
৮০
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন