মণীন্দ্র গুপ্ত

কবিতা - ছাই

মণীন্দ্র গুপ্ত
রবিবার, ০৩ আগস্ট ২০২৫ বিবিধ কবিতা

ছেলেবেলায়

পায়রার গলায় ছুরি বসিয়ে

লিচুগাছের ডাল ভেঙে

দুই কাঁদি তালশাঁস খেয়ে

বাগান লণ্ডভণ্ড আর পুকুরের জল ঘোলা করে

দিনের শেষে যখন বাড়ি ফিরতাম

তখন ঠাকুমাবুড়ি মাকে শাসাত :

খবরদার বউমা, ওকে আজ ভাত দেবে না

উনুনের ছাই বেড়ে দেবে।

ঠাকুমা কবে মরে গেছে। আমিও মরমর।

কিন্তু এতকাল ধরে আমরা বাগান লণ্ডভণ্ড করেছি

শয়তানের পিছনে কাঠি দিয়েছি।

এখন মাটির নিচে জল পাঁচ মিটার নেমে গেছে।

মেঘ আসে কিন্তু লাফায় না, গর্জায় না, মরা মাছের মতো নীরবে ভেসে যায়।

বেশি টানাহ্যাঁচড়া করলে মাটি থেকে জলের বদলে আর্সেনিক ওঠে।

গাছের শিকড় নুন মাখানো জোঁকের মতো সিটিয়ে গেছে –

নিচে যেতে পারে না। পুত্রবধূ আর নাতবউয়েরা

পাথরের ফাটলবাসী গিরগিটিদের মতো ধুলোমাখা।

খাঁ খাঁ দুপুরে, গোধূলিতে আর রাতে বুড়ি পৃথিবী

কেবলই বলছে : খা, খা, হারামজাদা, ছাই খা!

কতদিন ঘরে এক দানা চাল নেই –

বউমা, ওদের ভাতের বদলে ছাই বেড়ে দাও,

উনুন থেকে গরম ছাই তুলে দাও।

পরে পড়বো
৭০
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন