শ্রাদ্ধ শেষ হতে হতে দুপুর গড়িয়ে গেল বিকেলে—
সন্ধ্যার মুখে অসীমবাবুর পিণ্ড আর খাবার
নন্দ লেকের জলে দিলে এল।
লেকের ওইখানটায় কেউ বড় একটা যায় না।
জলে দলঘাস গজিয়েছে, কচি নলখাগড়া গজিয়েছে,
জলের নিচে শৈবাল।
বিদেহ অসীমবাবু যেন জানতেন— ওইখানেই গাছতলায়
বিমর্ষ আর ক্ষুধার্ত হয়ে বসেছিলেন—
নন্দ চলে যেতেই ময়লা প্যান্টের পা গুটিয়ে
পিণ্ডি নিতে জলে নামলেন।
পোড়াবার সময় চশমা সঙ্গে দেয় নি,
এখন আর ভালো দেখতে পাচ্ছেন না।
ওদিকে সূর্যের শেষ রশ্মি মিলিয়ে যাচ্ছে—
পিণ্ড কি জলে মিশে গেল?
না কি মাছেরা খেয়ে গেল?
অসীমবাবু অন্ধের মতো তাঁর রোগা হাতে
হাতড়ে হাতড়ে খোঁজেন।
মাঘের শীত মিশেছে লেকের জলে,
অন্ধকার মিশেছে লেকের জলে।
বড় কষ্ট হয়।
শীত, খিদে, নিঃসঙ্গতা কি এখানেও পিছু পিছু এল?
সামান্য একটু রেঁধে-দেওয়া অন্নের জন্য
সারা জীবন এত অপেক্ষা, তিতিক্ষা—
অসীমবাবু শরালের মতো কাঠি-কাঠি পায়ে
রাত্রির মধ্যে ভাতের টুকরো, পোড়ো মাছের টুকরো খুঁজতে লাগলেন।
ওঁ ভূঃ ভুবঃ স্বঃ।
শীত অচিরস্থায়ী। দু মাস পরেই বসন্ত এল।
পরিযায়ী শরালদের সঙ্গেই অসীমবাবু
দুই ডানা মেলে আকাশে উঠলেন।
ওঁ পার্থিব আকাশ।
ওঁ অপার্থিব আকাশ।
ওঁ আকাশ।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন