মোঃ রাঈদুল ইসলাম

কবিতা - জীবন যুদ্ধে কচুরিপানা

মোঃ রাঈদুল ইসলাম
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ প্রকৃতির কবিতা, সাম্য-জীবনমুখী কবিতা

কচুরিপানা, কচুরিপানা,
ধরে রেখো জলের কণা।
নদীর বুকে অনেক ঢেউ,
নাইকো তোমার, আপন কেউ।
হঠাৎ করে বৃষ্টি হলে,
তুমি যাবে নদীর তলে।

কচুরিপানা, কচুরিপানা,
ধরে রেখো জলের কণা।
তোমার দেহ সবুজ-কালো,
তার ওপরে সূর্যের আলো।
ভেবোনা তুমি রূপে রূপালী,
জলের তলায় শিকরে কালী।

কচুরিপানা, কচুরিপানা,
ধরে রেখো জলের কণা।
যদি কখনো ঝড় আসে,
থাকবে নাকো কেউই পাশে।
আঁকড়ে ধরো নদীর জল,
নয়তো হারাবে শক্তি-বল।

কচুরিপানা, কচুরিপানা,
ধরে রেখো জলের কণা।

বার্তা: কবির মতে, কচুরিপানা মানুষের জীবনের প্রতীক। এই কবিতায় কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, পৃথিবীতে নিজের স্থান নিজেকেই শক্ত করে ধরে রাখতে হয়। মানুষের আপনজন অনেক আছে মনে হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্ক ও সহানুভূতি পরিবর্তিত হয়। যখন সংকট আসে, তখন বোঝা যায় যে সত্যিকার অর্থে মানুষ মূলত একা।

এই কবিতায় কবি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, চাকচিক্য মানুষের আসল রূপ নয়। তাই অহংকার করাও অর্থহীন। উপরে আলো পড়লে যেমন কচুরিপানা সুন্দর প্রতিচ্ছবি তৈরি করে, তেমনি মানুষের জীবনেও কোনো কিছুর নির্ভরতায় বাহ্যিক চাকচিক্য থাকে। কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে থাকে বহু দুর্বলতা ও বাস্তবতার কঠিন সত্য।

তাছাড়া কবির মতে, বিপদে মানুষ মূলত একা হয়ে যায়। তখন কেউ পাশে দাঁড়ায় না। তাই নিজের অবস্থান ও শক্ত ভিত্তি নিজেকেই তৈরি করতে হয়। যদি মানুষ নিজের জায়গা শক্ত করে ধরে না রাখে, তবে ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব হারিয়ে যায়।

এই কবিতার মূল বার্তা হলো: জীবনে টিকে থাকতে হলে বাস্তবতা বুঝে, অহংকার ত্যাগ করে, নিজের অবস্থান নিজেকেই শক্ত করে ধরে রাখতে হয়।

বি:দ্র: এই কবিতাটি লেখক ২০১৩ ইং সালে লিখেছিলেন; এটিই তার লিখা প্রথম কবিতা।

পরে পড়বো
৮৭
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন