মোঃ রাশেদুল ইসলাম (অরণ্য)

কবিতা - সভ্যতার মৃত্যুদণ্ড

মোঃ রাশেদুল ইসলাম (অরণ্য)
বুধবার, ২০ মে ২০২৬ অন্যান্য কবিতা, বিবিধ কবিতা

মানুষ ভূমি কর্ষণ করেছিল স্বপ্ন ফলাবে বলে,
অতঃপর সেই মাটিতেই ঢেলে দিল বিষ,
যাতে পাখিরা না আসে।
যাতে কীটেরা না ছোঁয় তার ভবিষ্যৎ।
তারপর, কোন এক সন্ধ্যায়,
নিজের হাতেই তুলে নিল সেই ফল,
এবং অজান্তেই
নিজেকেই খাইয়ে দিল ধীরে ধীরে মৃত্যু।

আকাশটা একটু বেশি দেখতে বলে,
মানুষ বৃক্ষ নিধনে মেতে উঠলো।
খোলা বাতাসের দোহাই দিয়ে
শ্বাস নেওয়ার পথটাই সংকীর্ণ করে ফেলল।
কংক্রিটের দেয়ালে টাঙিয়ে রাখল
সবুজের নকল ছবি আর শান্তনা,
আর ব্যালকনি তে বসিয়ে দিল প্লাস্টিকের বন
যেখানে পাখিরা আসে না,
শুধুই ধুলো জমে।

অন্ধকারকে পরাজিত করবে বলে,
আগুন আবিষ্কার করলো মানুষ।
তারপর সেই আগুন দিয়েই তারা
শহর পুড়িয়েছে, দেশ পুড়িয়েছে
এমনকি পুড়িয়ে ফেলেছে নিজের ভেতরের আলোকেও।

মানুষ শক্তিশালী হবে অস্ত্র বানাল
বানাল লোহা, বারুদ, বিস্ফোরণ, ভয়।
অত:পর একদিন দেখা গেল সেই শক্তির ছায়াই
তাদের ঘাড়েই কালো নিশ্বাস ফেলছে নিঃশব্দে,
আর তারা আশ্রয় খুঁজছে নিজেদের সৃষ্ট আতঙ্ক থেকে।

মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল পৃথিবীকে জয় করার,
তারা সমুদ্র পেরিয়েছে, ছুঁয়েছে আকাশকে।
অজানাকে বন্দি করেছে নিজের মানচিত্রে।
কিন্তু তাদের মন?
সে মনের অন্ধকার, অস্থিরতা
আজও রয়ে গেছে অজয়, অচেনা হয়ে।

মানুষ সব কিছুই বানিয়েছে,
বদলেছে সব কিছুকে নিজের মতো করে।
কেবল একটি জিনিস ছাড়া,
তারা কখনোই নিজেকে নিজের করতে পারেনি।
তাদের প্রতিটি অর্জনের ভেতরেই
লুকিয়ে য়াছে এক টুকরো পরাজয়
নীরব, অদৃশ্য, কিন্তু ভয়ানক সত্য।

©_অরণ্য
#অনিকেত_কান্তা

পরে পড়বো
১৩

মন্তব্য করুন