মা, আমি বড় যন্ত্রণায় আছি…
মরে গেছি একা হয়ে—
নিঃশ্বাস বলে বেঁচে আছি।
প্রবাস জীবন মা,
হয়তো অর্থের প্রাচুর্যে ভরা,
তবুও আছে সুখের অভাব
আর তোর স্নেহের খরা।
রোজ সকালে মা,
তোর ডাকে ঘুম ভাঙে না—
ভাবো কী মা?
তোর ভেবে ঘুমই আসে না।
মনে পড়ে শুধু
তোর কোলে মাথা রাখার কথা,
কে আপন হয় তোর মতো—
বলবো এই মনের ব্যথা?
তোর কথা মনে হলে
আমার নয়ন ভিজে যায়,
“ভাত দে মা”— বলি কারে
যখন ক্ষিধে পায়?
নিজেই রান্না করতে গিয়ে
গেছি প্রায়,
কখনো মরিচ,কখনো
লবণ বেশি হয়ে যায়।
কেউ বলে না মা—
“মুখটা দেখেছিস?
না খেয়ে-দেয়ে
কেমন শুকিয়ে গেছিস!”
ওই মনমরা হয়ে বসে আছিস কেন?
হঠাৎ মনে হয়—
পেছন থেকে বললি যেন…
পেছন ফিরে দেখি—
একা আমিই রয়েছি,
না পেয়ে তোকে মা
শুধুই কেঁদে যাই।
“কাঁদিস না”— বলে
কেউ চোখের জল মুছে না,
এখানে মা
কেউ কাউকে বুঝে না।
এক বিন্দু সুখের আশায়
সবাই ছুটে থাকে,
নিজের হাতেই
নিজের চোখের জল মুছতে থাকে।
বড় অভাগা জীবন তাদের,
যারা প্রবাসে থাকে—
তোর আঁচলে যারা,
তারাই যেন স্বর্গে থাকে।
মা, আমি আবার
তোর আঁচলে আসতে চাই,
যতদিন বাঁচি—
বাঁচার মতো বাঁচতে চাই।
দিয়েছেন খোদা শ্রেষ্ঠতা
প্রতিটি মায়ের হাতে—
দোয়া করিস মা,
প্রবাসীরা যেন থাকতে পারে
মায়ের সাথে ।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন