কবিতা — কবিতাঃ ❝বৃষ্টির-সৃষ্টিরূপ❞

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ রূপক কবিতা

❝বৃষ্টির-সৃষ্টিরূপ❞

হইলাম আকাশ সৃষ্টি, অভিব্যক্তিগুলো বৃষ্টি,
ভূমি সভা-মঞ্চ;
মঞ্চ পিঁড়িতে চারা, ঝরিছে সতত ধারা,
ডুবিলে লইব লঞ্চ।

আজ হইয়াছ ছোট্ট চারা, একদিন হইবা নীলধারা,
হবে দুরন্ত নাবিক;
আমরাই হব যাত্রী, সকাল-সন্ধ্যা-রাত্রি
তোমরা দেখাইবা দিক।

আজ মোরাই দিকনির্দেশক, তোমরা সবে দর্শক,
আজ করিব পরিবেশনা;
তোমরা সবে চারাদল, ধারিয়া লও ধৈর্য-বল,
প্রারম্ভে ধারা বর্ণনা।

যদি হই পুষ্পঝরা বৃষ্টি, শূন্যে রাখিবে দৃষ্টি,
ঝরিবে কৃষ্ণচূড়া,
তোমাতে পড়িবে ঝরে, নিত্য নতুন ভোরে,
কল্পিবে শিখরচূড়া।

যদি হই তীব্র প্রলয়ধারা,
হে ক্ষুদ্র কোমল চারা,
শক্ত হবে আর-ও;
প্রত্যাশি তরুণ বৃক্ষে,
নবাঙ্কুর রক্ষিবে পরোক্ষে,
পল্লবি ছাউনি ধরো।

হই পার্জন্যধারা যদি,
ভাসিবে একপশলায় নদী,
ক্ষণিকেই হইবে শুষ্ক;
এই অবিচলতার যুদ্ধে,
রুখিবে দেবত্বের বিরুদ্ধে
ক্ষণভঙ্গুর উষ্কখুষ্ক।

রূপিবে কালবৈশাখী ধ্বংসে,
খণ্ডিবে অধিক অংশে,
সব হইবে লণ্ডভণ্ড,
রুখিবে নিঠুরি ধারা,
হে ক্ষুদ্র কোমল চারা,
বীজত্বে বর্জিবে পাষণ্ড।

এবারে কুসঙ্গ-পললবর্ষণ,
যেন জীব বৈচিত্র্যের দর্শন,
থাক না আলতো পরিচিতি
হইবে না অন্তরঙ্গ,
আসুক দুর্বার তরঙ্গ,
তবু বাড়াইবে না প্রীতি।

ধারা ফিরিবে অম্ল হয়ে,
নিমিষেই যাবে ক্ষয়ে,
বাঁচিবে শুধুই কাণ্ড
এই গুপ্ত-সুপ্ত ফুল্কিতে,
জ্বলিয়া উঠিবে উল্কিতে,
হইবে তরুপত্র প্রকাণ্ড

যদি হই তৃপ্ত গ্রীষ্মবর্ষণ,
তবে বাড়িবে তব আকর্ষণ,
হইবে আরো জীবন্ত;
স্বস্তি পাইবে ফিরে,
প্রাণ-রণের ভীড়ে,
ফুটিবে পুষ্প অনন্ত।

আবারও ক্ষীণ শ্রাবণধারা,
হে ক্ষুদ্র ছন্নছাড়া,
মিলিবে উর্বর ধরণী,
হইবে ফুলে-ফসলে ভরা,
ভরিয়া উঠিবে ধরা,
হইয়া উঠিবে স্মরণী।

যদি হই মৃদু বর্ষায় গণ্য,
হইয়ো না কভু বন্য,
স্মরিবে শ্রাবণ্যে;
অতি ফলনে হইবে ধন্য,
হইয়া উঠিবে অনন্য,
রূপিবে লাবণ্যে।

ডরাইবে না কভু বর্ধনে,
নিঠুরি ধারার বর্ষণে,
উৎকর্ষিবে নিজ গতিতে,
আসুক বান বৃষ্টিতে,
তব শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিতে,
হোক নিমবৃক্ষ তিতে,

ছড়াইবে কাণ্ড-কুঁড়ি বাকল,
যায় যাক শত ধকল,
ভরিয়া উঠিবে ফলে;
পুষ্প, ছায়া, লাকড়ি,
ভূমি ধরিবে আঁকড়ি,
বাড়িয়া উঠিবে বলে।

ছড়াইয়া পড়িবে চতুর্দিক,
টানিয়া লইবে কার্বনিক,
গড়িয়া উঠিবে ঔষধে;
তৎদিন তব সবে নির্দেশক,
আবারও মোরা দর্শক,
পরিপূর্ণ হইবে সুবোধে।

১২ বার পঠিত রিপোর্ট

মন্তব্য করুন