১১
ধন্য আশা কুহকিনী ! তোমার মায়ায়
মুগ্ধ মানবের মন, মুগ্ধ ত্রিভুবন !
দুর্বল মানব-মনোমন্দিরে তোমায়
যদি না সৃজিত বিধি ; হায় ! অনুক্ষণ
নাহি বিরাজিতে তুমি যদি সে মন্দিরে—
শোক, দুঃখ, ভয়, ত্রাস, নিরাশ, প্রণয়,
চিন্তার অচিন্ত্য অস্ত্র নাশিত অচিরে
সে মনোমন্দির শোভা | পলাতক নিশ্চয়
অধিষ্ঠাত্রী জ্ঞানদেবী ছাড়িয়া আবাস ;
উন্মত্ততা ব্যাঘ্ররূপে করিত নিবাস !
. ১২
ধন্য আশা কুহকিনী ! তোমার মায়ায়
অসার সংসারচক্র ঘোরে নিরবধি !
দাঁড়াইত স্থিরভাবে, চলিত না হায় !
মন্ত্রবলে তুমি চক্র না ঘুরাতে যদি !
ভবিষ্যৎ-অন্ধ মূঢ় মানব-সকল
ঘুরিতেছে কর্মক্ষেত্রে বর্তুল আকার
তব ইন্দ্রজালে মুগ্ধ ; পেয়ে তব বল
যুঝিছে জীবন-যুদ্ধ হায় ! অনিবার |
নাচাও পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে,
নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে |
. ১৩
ওই যে কাঙাল বসি রাজপথ-ধারে,—-
দীনতার প্রতিমূর্তি !— কঙ্কাল শরীর,
জীর্ণ পরিধেয় বস্ত্র, দুর্গন্ধ আধার ;
দুনয়নে অভাগার বহিতেছে নার |
ভিক্ষা করি দ্বারে-দ্বারে এ তিনপ্রহর
পাইয়াছে যাহা, তাহে জঠর-অনল
নাহি হবে নির্বাপিত ; রুগ্ন কলেবর ;
চলে না চরণ, চক্ষে ঘোরে ধরাতল |
কি মন্ত্র কহিলে তুমি অভাগার কানে,
চলিল অভাগা পুনঃ ভিক্ষার সন্ধানে |
. ১৪
ধর্মাধিকরণে বসি নিম্ন কর্মচারী,
উদরে জঠর জ্বালা, গুরু কার্যভারে
অবনত মুখ,— ওই হংসপুচ্ছধারী
বীরবর,—- যুঝিতেছে অনন্ত প্রহারে
মসীপাত্র-সহ, প্রভু-পদাঘাত-ভয়ে |
যথা শালবৃক্ষ করে গিরি-শিরোপরে
যুঝিল ত্রেতায় বীর অঞ্জনাতনয়
নীল সিন্ধু-সহ, ডরি সুগ্রীব বানরে |
ঘর্ম-সহ অশ্রুবিন্দু বহে দর-দর,
ভাবিতেছে এই পদ ত্যজিব সত্বর |
. ১৫
না জানি কি ভবিষ্যৎ, আশা মায়াবিনী !
চিত্রিলে নয়নে তার ; মুছি ঘর্মজল,
মুছি অশ্রুজল পুনঃ লইয়া লেখনী,
আরম্ভিল মসীযুদ্ধ হইয়া সবল |
নবীন প্রেমিক ওই বসিয়া বিরলে,
না পেয়ে প্রিয়ার পত্রে তব দরশন,
নিরাশ প্রণয়ে ভাসে নয়নের জলে,
ভঙ্গ-প্রায় অভাগার প্রণয়-স্বপন |
শুনিয়া তোমার মৃদু সুমধুর ভাষা
বলিল নিশ্বাস ছাড়ি — “ না ছাড়িব আশা |”

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন