পাপন বসুনিয়া

কবিতা - যদি কেউ থেকে যায়

পাপন বসুনিয়া
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ অন্যান্য কবিতা, বিবিধ কবিতা

সন্ধ্যায় নদীর ধারে দাঁড়িয়ে আমি বহুবার ভেবেছি—
জল কেন এত নীল হয়, বাতাসে কেন থাকে বিষাদের গান;
দূর পাহাড়ে যখন ছায়া নামে ধীরে, অজান্তে,
মনে হয় সময় নিজেই হেঁটে চলে আমাদের বুকের ভেতর।
আমরা দেখি, তবু বুঝি না—
জীবন কীভাবে প্রতিদিন নিজের মুখ বদলায়।

সময়ের নদী বহে যায় অবিরাম—
মানুষ আসে, মানুষ যায়, নামহীন ভিড়ের মতো;
কেউ থাকে না চিরকাল, কেউ থামে না দীর্ঘক্ষণ,
শহরের আলো নিভে গেলে যেমন রাস্তায় পড়ে থাকে কেবল ধুলো।
তবু মাঝে মাঝে ভাবি—
যদি কেউ থেকে যায়, যদি কেউ হেঁটে না যায় আমার মতো?

আমি দেখেছি শুকনো পাতাকে—
নদীর স্রোতে ভেসে যেতে যেতে সে কাঁপে, তবু হারায় না তাড়াতাড়ি;
আমি দেখেছি সন্ধ্যার পাখিদের—
তারা উড়ে যায়, কিন্তু আকাশে রেখে যায় একটুখানি নীল শূন্যতা।
মানুষও কি তেমন নয়?
চলে যায়, অথচ রেখে যায় একখণ্ড নীরব স্মৃতি।

যদি কেউ থেকে যায়—
নামহীন, আলোহীন, কোনো প্রতিশ্রুতির ভার না নিয়ে,
শুধু একটুখানি উপস্থিতির মতো;
তার চোখে যদি থাকে সময়ের গভীর জল,
সে কি টলাতে পারে এই অবিরাম স্রোত?
হয়তো পারে না— তবু তার থাকা মানেই একখণ্ড স্থিরতা।

রাতে, যখন নির্জন পথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে বাতাস,
আর দূরের গ্রামগুলো ঘুমিয়ে পড়ে অন্ধকারের কোলে,
আমি তখন ভাবি—
এই নীল পৃথিবীতে কি সত্যিই কেউ থাকে কারও জন্য?
নাকি আমরা সবাই কেবল যাত্রাপথের মানুষ,
অচেনা গন্তব্যের দিকে হেঁটে যাই নিঃশব্দে?

তবু, তবু—
যদি কেউ থেকে যায়, একাকী পথের ধারে,
শুকনো পাতার মতো, নদীর স্রোতের মতো—
নড়বে, কাঁপবে, কিন্তু হারাবে না সহজে;
তার নিঃশব্দ উপস্থিতিতে হয়তো বদলায় না সময়,
তবু বদলায় আমাদের ভেতরের অন্ধকার।

আমি জানি, মানুষ চিরকাল থাকে না—
জীবন শেষ হয়, আলো নিভে যায়, স্মৃতি ঝরে পড়ে ধুলোয়;
তবু এই নদীর ধারে দাঁড়িয়ে আজও আমি তাকিয়ে থাকি এক দিকেই—
হয়তো কোনো মুখ নেই সেখানে, কোনো কণ্ঠ নেই,
তবু মনে হয়—
যদি কেউ থেকে যায়, তবে এই পৃথিবী পুরোপুরি ফাঁকা নয়।

পরে পড়বো
৭৪

প্রকাশিত মন্তব্য গুলো

  1. প্রিয় পাঠক, লেখা সম্পর্কে আপনার মতামত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। ধন্যবাদ।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন