ভূমিকা
সময় বড়ই আশ্চর্য এক সত্তা। অবিরাম ছুটে চলেছে সে নিজের নিয়মে, তার গতি কখনো থেমে থাকে না। এই সময়ের স্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছুটছি আমরাও—ব্যস্ত জীবনের নানান জটিলতা, দায়িত্ব আর প্রতিদিনের সংগ্রামের ভিড়ে। সেই ছুটে চলার পথে আমরা অনেক কিছু অর্জন করি, অনেক কিছু হারাইও। অথচ এই নিরন্তর ব্যস্ততার আবরণে ঢাকা পড়ে যায় জীবনের অনেক অমূল্য মুহূর্ত, যেগুলো হয়তো আর সচেতনভাবে স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে না।
কিন্তু মানুষমাত্রই স্মৃতিমেদুর। হঠাৎ করেই কখনো এক অদৃশ্য কুয়াশার পর্দা যেন আমাদের চারপাশে নেমে আসে—যেন সময় থেমে যায়, দমবন্ধ করা ব্যস্ততা মিলিয়ে যায়। সেই অদ্ভুত মুহূর্তে আমাদের হৃদয়, আমাদের মন ফিরে যেতে চায় অতীতে। ফিরে যায় সেই দিনগুলিতে, যেগুলোকে আমরা পিছনে ফেলে এসেছি—তবু যেগুলো এখনও আমাদের অন্তরের অন্তঃস্থলে বেঁচে আছে।
ফেলে আসা সেই দিনগুলোতে আছে আমাদের জীবনের মধুরতা ও তিক্ততা, প্রেম ও বিরহ, সুখ ও দুঃখের উজ্জ্বল রঙে রাঙানো কত কথা। আছে কৈশোরের নির্ভেজাল দিনগুলো, ছেলেবেলার সরল হাসি, প্রথম প্রেমের কাঁপুনি, বিচ্ছেদের বেদনা কিংবা জীবনের নানা প্রান্তরে সঞ্চিত অনন্ত অনুভূতি। এই সবই একসময় কুয়াশার মতোই আবছা হয়ে যায়, তবুও সময়ে সময়ে আবার ভেসে ওঠে মনের আকাশে।
সেই আবছা অনুভূতি, সেই স্মৃতির মায়াজালকেই আমি কবিতার রূপ দিতে চেয়েছি। তাই এই কাব্যগ্রন্থের নামকরণ করা হয়েছে— \”কুয়াশা যখন\”। এখানে সংকলিত প্রতিটি কবিতা এক একটি স্মৃতির দরজা খুলে দেবে পাঠকের কাছে। প্রেম, প্রীতি, বিরহ, বেদনা কিংবা অতীত জীবনের নানান মুহূর্ত—সবই জায়গা করে নিয়েছে এই বইয়ের পাতায়।
কুয়াশায় যখন
প্রকাশনা: অক্ষর স্রোত সাহিত্য পত্রিকা ও প্রকাশনী
প্রকাশক: হরিহর গায়েন
প্রচ্ছদ শিল্পী: হরিহর গায়েন
প্রকাশিত বছর: ২০২৫
সর্বশেষ প্রকাশ: ২০২৫
উৎসর্গ: পিতামহ - স্বর্গীয় চন্দ্রকান্ত বসু
১২১

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন