এই মাটির সাথে জন্ম-নাড়ির বাঁধন যাদের ছিল,
এক নিমিষেই পরবাসী আজ, শিকড় ছিঁড়ে গেল।
হাজার বছর কাটল যাদের এই হাওয়া আর জলে,
দেশ ছাড়ছে নিঃস্ব হয়ে বিষাক্ত এক ছলে।
ওরাই নাকি ‘মুশরিক’ আজ, ওরাই নাকি পর?
সুযোগ বুঝে ভাঙছে মানুষ নিজের প্রতিবেশীর ঘর।
ভিটেমাটি দখল হবে, বাগান হবে সাফ,
ধর্ম ধুয়ে খুনের নেশা—কে দেবে কার মাফ?
মায়ের কোল আর বোনের ইজ্জত নেইকো নিরাপদ,
একই সাথে জীবন কাটানো হঠাৎ বাড়ে বিপদ।
নামের দায়ে, ধর্মের দায়ে রক্ত ঝরবে পথে?
মানবতা হারিয়ে আজ চলছে উল্টো রথে।
শাঁখা পরা ওই হাতের ছায়া আর দেখা যায় না,
পুজো ঘরের প্রদীপ শিখা আঁধার আর মেটায় না।
যাদের সাথে নাড়ু আর পিঠা ভাগ হতো উৎসবে,
তারা আজ পালাচ্ছে প্রাণ হাতে, জবাব দেবে কে কবে?
সীমান্তের ওই কাঁটাতারে ঝুলছে দীর্ঘশ্বাস,
ফাঁকা ভিটেয় পড়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস।
যাদের পূর্বপুরুষ ছিল এই পলির অবিচ্ছেদ্য অংশ,
অসহায় আজ দেখছে তারা নিজের কুলের ধ্বংস।
সাগর পাড়ি, বন পাড়ি—যাওয়ার কি আর শেষ?
শূন্য হচ্ছে গ্রাম-মহল্লা, বিপন্ন আজ দেশ।
বহুত্ববাদ পুড়ছে যখন উগ্রতার এই অনলে,
পাপ ঢাকা কি সম্ভব হবে নিছক ধর্মের ছলে?
চিনি চিনি ভাই সব মুখোশধারীর আদিম লালসা জাগে,
সম্পত্তি গ্রাস লক্ষ্য যাদের, ‘ধর্ম’ আসে আগে।
যেখানে আজ মানুষ মরে সেরেফ পরিচয়ের দায়ে,
সেইখানেতে সভ্যতার বিষ মাখছে সবাই গায়ে।
যতই টানো আড়াল তুমি, ইতিহাস রবে সাক্ষী—
নিজের হাতেই অন্ধ করছ নিজের সোনার আঁখি।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন