অন্ধকারের এই জঠর থেকে জন্ম নিল যে নিশিদিন,
সেখানে উৎসবে মাতে যত জানোয়ার
আর মুখোশধারী মহাজন।
আমি এক ঘুণে ধরা বধ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে দেখি—
যাদের হাত ম ম করছে চন্দনের সুগন্ধে নয়,
বরং জিঘাংসার দুর্গন্ধে,
তারা আজ পতাকার রঙ বদলে
নতুন এক লাল-সবুজের নকশা আঁকে।
আমি এমন এক শ্মশানে আজ দাঁড়িয়ে আছি,
যেখানে বিজয়ের মিছিলে
শুধু শকুনেরা ডানা ঝাপটায়;
মুক্তির গান গেয়ে গেয়ে
যারা কণ্ঠ চিরে ফেলেছিল—
তারা এখন মাজারের ধুলো মেখে
নিরাপদ আশ্রয়ে ঘুমায়।
এই মাটি কি আমার?
এই ধোঁয়াটে আকাশ কি চেনা?
যেখানে ধর্মের নামে ধারালো হয়েছে পশুর থাবা,
আর বিশ্বাসের বিষে নীল হয়ে গেছে শস্যের ক্ষেত।
আমি দেখি—
বিজয় মানে এখন রাজপথে ভস্মীভূত লাশের স্তূপ,
বিজয় মানে মন্দির-গির্জার চাতালে কান্নার হাহাকার,
বিজয় মানে দেবতার চোখের কোণে
জমে থাকা জমাট রক্ত।
ভয় নেই, ভয় নেই—
যারা মশাল হাতে ঘর পোড়ায়,
তারাই আবার টিভির পর্দায়
শান্তির বাণী শোনায়।
শুনছি,
তারা নাকি নতুন এক স্বর্গের ইশতেহার লিখছে,
যেখানে মানুষ থাকতে হলে আগে পঙ্গু হতে হবে,
আর স্বাধীন হতে হলে
হতে হবে একনিষ্ঠ দাস।
আমি এই নরকের বাসিন্দা হতে আসিনি,
আমি এই কুৎসিত উল্লাসের অংশীদার নই।
আমার যে বিজয় ছিল শোষিতের বজ্রমুষ্টিতে,
সেটা আজ নিলামে উঠেছে
এক অন্ধ উপাসনালয়ে।
আমি এখন ভাঙা ব্রিজের তলায় বসে
বিষাক্ত ধোঁয়া টানি,
আর ভাবি—
যাদের পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে গেল বর্ণমালা,
তাদের আঙুলের ডগায় কেন ঝকঝক করছে
আমার দেশের সার্বভৌমত্ব?
উন্মাদ এই ভিড়ের মাঝে
আমি একাই এক বিদ্রোহী প্রেত,
যে আজ চিৎকার করে বলছে—
এই অন্ধকার আমার নয়,
এই রক্তাক্ত আলখাল্লা পরা দেশ
আমার নয়!

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন