এখন আমরা সবাই খুব অসাম্প্রদায়িক,
খুব প্রগতিশীল এবং ভয়ানক সমব্যথী।
মাঝে মাঝে সভায় বসি, গোলটেবিলে চা খাই—
আর মেপে দেখি, ওপাশের মানুষটার সিঁথির মাপ কতটুকু।
আমাদের দলগুলোর ইশতেহারে সোনালি হরফ,
মুখের বুলিতে উপচে পড়ে ভ্রাতৃত্বের মধু।
কিন্তু মঞ্চের তলায় যে জিবগুলো লকলক করে,
সেখানে লুকানো আছে হাজার বছরের আদিম ঘৃণা।
একবার মফস্বলের কোনো এক ওয়াজ মাহফিল ঘুরে আসুন,
কিংবা শহরের কোনো রুদ্ধদ্বার বৈঠক—
দেখবেন, মানুষ হিসেবে আপনি বড্ড ঠুনকো।
আপনার উপাসনালয় আসলে আমাদের ভোটব্যাংকের ডিপোজিটরি,
আর আপনার অস্তিত্ব? সে তো কেবল পরিসংখ্যানের একটা ভগ্নাংশ।
আমরা বলি ‘সংখ্যালঘু’, কিন্তু মনে মনে বলি ‘অন্য’।
আমরা বলি ‘রক্ষা করব’, কিন্তু চোখে রাখি আপনার বাস্তুভিটায়।
আমাদের আচরণে সেই পুরনো জমিদারী মেজাজ—
দয়া করে থাকতে দিচ্ছি, এটাই তো আপনার পরম পাওয়া!
এই যে দ্রুত ক্ষয়িষ্ণু জনপদ, এই যে হারিয়ে যাওয়া সুর—
এগুলো আমাদের রাজনৈতিক কৌশলের এক একটা সাফল্যের পালক।
আমরা আসলে বর্ণবাদী, তবে আমরা আধুনিক;
আমরা কোপ দিই না সরাসরি,
আমরা শুধু এমন এক নোনা ধরা পরিবেশ তৈরি করি—
যাতে আপনারা নিজেরাই একদিন জলছাপ হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যান।
শেষ বিকেলের রোদে যখন আপনারা দেশ ছাড়েন,
আমরা তখন টিভিতে বসে সম্প্রীতির গান গাই।
আহা, কী চমৎকার আমাদের এই দ্বিমুখী অভিনয়!
খুব সুন্দর না?

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন