দাঁত বের করে হাসছিস কেন রে ছোকরা?
তোর ধবধবে সাদা পাঞ্জাবিতে যেন কোনো দাগ নেই,
অথচ তোর পকেটে রাখা ইশতেহারের প্রতিটি বর্ণে মিথ্যের প্রলেপ।
তুই এসেছিস আমার বারান্দায়, এসেছিস এক টুকরো সস্তা কাগজের আশায়—
যাকে তোরা বলিস ‘ভোট’।
ভোট চাইতে এসেছিস, হারামজাদা?
আগে শোন, ওই যে দূরে দিগন্ত রেখাটা দেখা যাচ্ছে,
ওখানে আজন্ম একটা অধিকারের পতাকা ওড়ার কথা ছিল।
তুই কি জানিস, আমার ঘরের দরজায় যে শিকলটা ঝুলছে,
সেটা খুলতে গেলেও এখন কারো অনুমতি নিতে হয়?
আমার কথা বলার শব্দগুলো বাতাসে মিশে যাওয়ার আগেই
তুই বা তোর লোকেরা কেন ওগুলো পাহারা দিস?
আগে আমাকে আমার বেঁচে থাকার ব্যাকরণ ফেরত দে।
আমার কথা বলার ধকধকানি, আমার নির্ভয়ে স্বপ্ন দেখার অনুমতি—
এই বাংলাদেশের মাটির নিচে চাপা পড়া গণতন্ত্রের অধিকারগুলো আগে আমাকে দে।
আগে আমার হৃত শৈশব আর লাঞ্ছিত দুপুরগুলো ফিরিয়ে আন।
নইলে শোন,
তোর ওই রঙিন প্লাস্টিকের বাক্সে আমার মহামূল্যবান রায় খুঁজে পাবি না।
অপেক্ষা করিস—
তোর ভোটের বাক্সে ভোট দেবার পরিবর্তে,
তীব্র ঘৃণায় আমি সেখানে পেচ্ছাব করে দেব।
তোর বাক্সের পবিত্রতা রক্ষা করার দায় আমার নেই,
কারণ তুই আমার জীবনের পবিত্রতা অনেক আগেই কেড়ে নিয়েছিস।
এখন যা। রোদটা পড়ে গেছে, সন্ধ্যা নামছে।
অন্ধকারে তোদের মুখ চেনা যায় না, কিন্তু গন্ধটা ঠিকই পাওয়া যায়।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন