উন্মত্ত ঘোড়সওয়ারের মতো ধেয়ে আসছে বারো তারিখের সেই কালবেলা,
বাতাসে নুন আর বারুদের গন্ধ, যেন দীর্ঘশ্বাসে ভিজে আছে মেঘনা-কর্ণফুলী।
আমি চশমাটা মুছে দেখি—
পাহাড়ের মাথায় যে চাঁদটা জেগেছিল, তার গায়ে আজ রক্তের দাগ;
সাঙ্গুর স্বচ্ছ জল কি তবে কালচে হয়ে যাবে কোনো এক অচেনা জিকিরে?
সবুজ মানচিত্রের ওপর বিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে একখানা ভারী কালো চাদর,
যেখানে নক্ষত্রেরা নিভে যায় ভয়ে,
যেখানে শঙ্খমালাদের কপালে আর সিঁদুর থাকে না,
চাকমা কিশোরীর চুলে গোঁজা ফুলটা পিষ্ট হয় তপ্ত বুটের নিচে।
আমি দেখছি—
একটিমাত্র রঙ ধুয়ে মুছে দিচ্ছে আমাদের হাজার বছরের আল্পনা।
একটিমাত্র তর্জনী শাসিয়ে যাচ্ছে বাউল আর বনভান্তের মৈত্রী।
মানুষের উঠোনে এখন ধর্মের লম্বা ছায়া,
অথচ স্রষ্টার আঙিনায় আজ মানুষেরই ঠাঁই নেই।
বাংলাদেশ? সে তো এক রূপবতী নদী ছিল!
এখন তার শরীরে কেবল কাঁটাতারের দাগ আর অন্ধকারের উল্কি।
তবে কি শেষ?
তবে কি এই গাঢ় আঁধারেই ডুবে যাবে আমাদের একুশ আর বৈসাবি?
কলম থমকে যায়…
বাতাসে শুধু ডানা ঝাপটানোর শব্দ, যেন একটা গোটা দেশ খাঁচায় বন্দি হচ্ছে।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন