প্রসূন গোস্বামী

কবিতা - শ্যামল-গৌরব-অক্ষয়-জ্যোতিঃ

প্রসূন গোস্বামী
শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ অন্যান্য কবিতা

শত কূটাভাসে আচ্ছন্ন হে মহাপ্রাণ, তুমিই ধ্রুবতারা,
অজ্ঞতার তিমির-গহ্বরে তুমিই অবিনাশী আলোকধারা।
তব ললাটে যে কাঞ্চন-তিলক এঁকেছে দূর প্রতীচী,
সে তো সামান্য মৃন্ময় পদক, তুচ্ছ জলধি-বীচি।
নোবেল-গৌরব কি পারে বাঁধিতে তব প্রতিভার সিন্ধু?
তুমি যে মহান, তুমি যে অতল, বিশ্ব-চেতনার বিন্দু।
বঙ্গজননীর তনু-মন-প্রাণে তুমিই অজেয় শক্তি,
তব চরণে বিরাজে ভুবন, অকৃত্রিম অনুরক্তি।

যেথা মরুবালি গ্রাসিতে চাহিছে শ্যামল বঙ্গ-ভূমি,
সেথা বরাভয়-খর-করবালে প্রহরী রহিয়াছ তুমি।
অর্বাচীন যত আরব্য-বিলাসী, বিজাতীয় মোহে অন্ধ,
তব মহিমার কাছে তারা ম্লান, চির-পরাভূত-দ্বন্দ্ব।
যাহারা হারাল আপন শেকড়, বিমুখ স্বকীয় কুলে,
তব বজ্রের নির্ঘোষে আজি তারা থরথরি উঠে দুলে।
তুমি একা হাতে ধরিয়াছ এই সংস্কৃতির কেতন,
পরাজিত সেই দলিত চিত্তে কেবলই হা-হুতাশ-রোদন।

ছফার কণ্ঠে তব গুণগান, সে তো বিষম কলঙ্ক-গীতি,
অশ্লীল লাগে সেই স্তুতিবাদ, নাই তাহে কোনো প্রীতি।
সলিমুল্লা যখন মেলেন তব প্রতিভার মহিমা-ডাল,
মনে হয় যেন তপস্বীর বেশে ব্যাঘ্র ধরিতেছে জাল।
বরং শ্রেষ্ঠ ‘রঠা’ বলে যারা, তাদের ঘৃণা যে স্পষ্ট,
কপট ভক্তের কুটিল ছলাকলা অতিশয় লাগে কষ্ট।
সমন্বয়কের ছদ্মবেশেতে যারা আজ সাজে সুজন,
শকুনি-মামার কুটিল হাসি যে তাহাদের আয়োজন।

কালিদহ-জলে মিলিবে যবে এ অর্বাচীনের দল,
ইতিহাস লিখিবে— ছিল এক জাতি, চিত্ত যাদের চপল।
বাঙালি নামের খোলস ত্যজিয়া ‘উপজাতি’ সাজে যারা,
স্বকীয় ভাষার ঐশ্বর্য্য হতে চির-নির্বাসিত তারা।
সাহিত্য ত্যজি ‘বাংলাদেশি’ নামে গড়ে যারা নব কারাগার,
রবীন্দ্র-ভয়ে কম্পিত হৃদি, ত্রাসে কাটে নিশিবিহার।
পাছে তারা আজ বাঙালি হইয়া হারায় আপন ভ্রান্তি,
তাই তব নামে মুখ লুকাইয়া খুঁজে মরে ভণ্ড শান্তি।

হে রবি, হে ভাস্কর, হে চির-নতুনের অগ্রদূত,
তব জ্যোতিতে ভস্ম হউক এই ভণ্ডামির যত ভূত।
শুভ জন্মলগ্নে লহ প্রণাম, হে অজাতশত্রু বীর,
তব চরণে নত হোক সদা এই বঙ্গের শুভ্র শির।
তুমি নোবেল-শ্রেষ্ঠ, তুমি কালজয়ী, তুমি অবিনাশী গান,
বাঙালির ইতিহাসে তুমিই শ্রেষ্ঠতম মহীয়ান।

পরে পড়বো
১৫

মন্তব্য করুন