গল্প — কবি | পর্বঃ১

শনিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৫ অন্যান, জীবনবাদী

পর্ব-১ঃ

ফাটল ধরা দেয়াল,
তবুও ভেতরে শিকড় গেড়ে আছে স্বপ্নের ক্ষুদ্র চারা;
যে চারা কখনো ফুল ফোটায় না,
কারণ বৃষ্টির আগে এসে পড়ে
ভাড়ার কাগজ,
ঋণের নোটিশ,
আর ক্ষুধার তীব্র নখর।

রাস্তার ধুলোয় লুটিয়ে থাকা ছেলেটা
জানেই না, রঙিন বইয়ের পাতা
শুধু স্কুলে থাকে না—
মনেও থাকে,
যদি পেট ভরে একবেলা খাওয়া যায়।

শীতের রাতে ফুঁসে ওঠা হাওয়া
দরজার ফাঁক দিয়ে ঢুকে
হাড় পর্যন্ত জমিয়ে দেয়—
কিন্তু হাড় গলানো উষ্ণতা
পয়সার দোকানে বিক্রি হয় না।

আমি দেখেছি—
অভাব কখনো গলা টিপে মারে,
কখনো স্বপ্নের চোখে ছুরি বসায়,
কখনো মুখে বিষ ঢালে
যাতে আর কেউ
আকাশের দিকে তাকানোর সাহস না পায়।

তবুও,
এই মাটিতে জন্ম নেয় কবি,
যে নিজের ক্ষুধার উপর লিখে রাখে—
“কাল হয়তো বৃষ্টি হবে,
তখন এই মাটি কিছুটা নরম হবে,
আমরা আবার বাঁচব।”

দৃশ্যপট -১:
গল্পের সূচনাঃ(আসফাক আবির)

চারিদিকে ঘন অন্ধকার, মেঘাচ্ছন্ন, প্রবল বৃষ্টির অপেক্ষা। দুপুর বেলাতে এমন অন্ধকার আগে কখনো দেখিনি।
ঢাকার আকাশ কালচে রঙ ধারণ করেছে, হালকা ধুলো ভাসছে বাতাসে, মানুষের এদিক সেদিক ব্যস্তচলন।
আবির ছোট্ট ঘরের মেঝেতে বসে ডায়েরি বন্ধ করল।
পাতার ভেতর শুকনো কালির গন্ধ, আর বাইরে ফুটপাতে চায়ের দোকানীর ফেলে দেয়া বর্জ্যের গন্ধ এক হয়ে যাচ্ছে।

ঘরের ফ্যানটা ঘুরছে ধী-রে, শব্দ করছে—ঝর ঝর ঝর—যেন হাড়কাঁপানো কোনো পুরনো কবিতার সুর।
তার সামনে ছড়িয়ে আছে তিনটা খাতা, কিছু ছেঁড়া পাতা, আর এক কাপ চা—যেটা অনেক আগেই ঠান্ডা হয়ে গেছে।

আবির চায়ের কাপ হাতে নিয়ে জানালার দিকে তাকাল। গলির মোড়ে কয়েকটা ছেলে মার্বেল খেলছে, আর রাস্তার ওপাশে এক বৃদ্ধা চটের বস্তায় বসে ভিক্ষা করছে।
তার চোখে এই দৃশ্যগুলো কবিতায় রূপ নেয়, কিন্তু তার পকেটে সেসব শব্দ ছাপানোর টাকা নেই।

আজ সকালে বাড়িওয়ালার ছেলে রঞ্জু এসেছিল, বলেছে—
“আগামী সপ্তাহে ভাড়া না দিলে, ভাই, রুম খালি করে দিয়েন।”
আবির শুধু মাথা নেড়েছে। উত্তর দেওয়ার মতো কথা ছিল না।

তার হাতে কবিতা আছে, কিন্তু কবিতা দিয়ে তো আর ভাড়া মেটানো যায় না।

প্রথম অনুচ্ছেদঃ

টেবিলের ওপরে মোবাইল ভাইব্রেট হচ্ছে, সম্ভবত ঊষার কল!
আবির তখনও গভীর ঘুমে মগ্ন। বাহিরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, হালকা শীতল পরিবেশ। অলস মানুষদের জন্য যাহা অতি উত্তম আবহাওয়া, যাদের কোনো কাজকাম নাই তাদের কাছে এই আবহাওয়ায় দুপুর ২ টার আগে বিছানা ছেড়ে ওঠা অপরাধ। সাতটা কলের পরে ঘুম ভাঙে আবিবের।

-হ্যালো!
-কই তুমি? এখনো ঘুমাইতাছো? কয়টা বাজে? কয়টা কল দিছি? তুমি কি আসবা নাকি আসবা না?
– তুমি কোথায়?
-পাল্টা প্রশ্ন করবা না। কোথায় থাকার কথা ছিল?
-ও ও ওহ ! তুমি বসো আমি আসছি ১০ মিনিট। যাস্ট টেন মিনিট, প্লি-জ।

আবির যদিও নিজের ইচ্ছায় বেকার না, প্রতিনিয়ত ইন্টারভিউয়ের পর ইন্টারভিউ দিয়ে যাচ্ছে, তবে হচ্ছে না কিছুই।
তবে সে যথেষ্ট প্রতিভাবান এবং একজন উদীয়মান কবি, টুকটাক কবিতা লেখে, তবে এখনো কোনো কবিতা কোথাও প্রকাশিত হয়নি, আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা-লেখি করে। যদিও তার কবিতা লেখার পিছনেও রয়েছে এক লম্বা বিরহের ইতিহাস, সেগুলো না হয় পরেই বলি!

তড়িঘড়ি করে হাতমুখ কোনোভাবে ধুয়ে রিক্সা নিয়ে আবির চলল ঊষার কাছে। আপনাদের মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে ঊষা কে? আবিরের প্রেমিকা?
হ্যা, আজ তাদের সম্পর্কের এক বছর। এর আগে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বের। ছোট বেলা থেকেই একসাথে বড় হওয়া তবে তখন প্রেম ছিল না তাদের মধ্যে। তবে একটা টান দু’জনেই অনুভব করতো, পরবর্তীতে যেটি কিনা ভালোবাসার রূপ নেয়। তবে সেই টান বুঝে উঠতে আবিরের বড্ড বেশিই সময় লেগে গিয়েছিল।

ঊষা এর আগে কোনো সম্পর্কে জরায়নি। আবিরই তার প্রথম এবং শেষ। কিন্তু আবিরের চতুর্থ প্রেমিকার নাম ঊষা। ঊষা আগে থেকেই আবিরকে পছন্দ করতো কিন্তু ওভাবে বলা হয়ে ওঠেনি তাই প্রেম ও হয়ে ওঠেনি, আর আবির ওকে আগে ওই নজরে কখনো দেখেনি যখন না তৃতীয় প্রেমিকা তার মন ভেঙে চলে গেছে এবং ঊষা তার মনের ভাব প্রকাশ করেছে।

-২০টা টাকা দাও তো, মামার ভাড়া টা দিই।
-ঊষা কিছু না বলে ব্যাগ খুলে ১০০ টাকা বের করে আবিরের হাতে ধরিয়ে দিল।

২৫২ বার পঠিত রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

লেখকের অন্যান্য প্রকাশনা