সাইফুল ইসলাম মৌন

কবিতা - অপার্থিব অনামিকা

সাইফুল ইসলাম মৌন
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ প্রেমের কবিতা, বিরহের কবিতা

অনামিকা, তুমি কি জানো? নামহীন এই সম্পর্কের
কোনো কূল নেই,
‎তবুও হৃদয়ের গহীনে তোমার একচ্ছত্র বাস।

‎যাকে ছোঁয়া যায় না, অথচ প্রতি নিঃশ্বাসে অনুভূত হয়-
‎সেই অদ্ভুত মায়াজালের নামই কি তুমি?

‎​কিছু কথা থাকে যা ঠোঁট অবধি এসে ফিরে যায়,
‎কিছু অনুভূতি থাকে যা কেবল চোখের কোণেই জমা হয়।

‎আমরা দুজনে যেন সমান্তরাল দুটি রেললাইন,
‎পাশাপাশি পথ চলা অনন্তকাল,
‎অথচ আমাদের মিলন কোনো এক দিগন্তের মিথ্যে মরীচিকায়।

‎​তুমি আমার সেই না পড়া কবিতার কদমরানী-
‎যার প্রতিটি শব্দে মিশে থাকে অব্যক্ত হাহাকার।
‎নাম না দিয়েই যদি কেটে যায় একটি জীবন,
‎তবে সেই শূন্যতাটুকুই হোক আমাদের চিরস্থায়ী বাঁধন।

‎​অনামিকা,
‎তুমি আমার ছিলে না বলে আজও পাওয়ার তৃষ্ণা প্রবল,
‎পেলব স্পর্শের চেয়েও দামী এই ‘না-পাওয়ার’ কোলাহল।

‎তোমাকে সরাসরি ছোঁয়ার সাহস আমার কোনো জন্মে হবে কি না জানি না,
‎তাই এই নামহীন বাতাসটুকুই আমার পরম পাওয়া।
‎সে তোমার শরীর ছুঁয়ে আসে, আর আমি সেই ছোঁয়া বুকে মেখে একাই কাটিয়ে দিই-
‎সহস্র বছরের এক দীর্ঘ মুহূর্ত।

‎অনামিকা,
‎ইচ্ছে করে, ওই হাওয়ার ডানায় ভর করে বলি,
‎”আমি ভালো নেই তোমায় ছাড়া।”
‎কিন্তু পরক্ষণেই ভাবি, তুমি তো ছুঁয়ে আছ আমায়;
‎কখনো বিকেলের ঝিরঝিরে পবন হয়ে,
‎কখনো বা বৃষ্টির আগে ধুলো ওড়ানো মাতাল হাওয়া হয়ে।

‎অনামিকা, তোমার দিকে তাকালে মায়া বাড়ে,
‎অপ্রকাশিত কথার ভিড়ে বুকটা কেবল ভারী হতে থাকে।
‎তুমি সেই স্নিগ্ধ কুয়াশা, যাকে ধরা যায় না,
‎অথচ যার শীতলতায় হৃদয় ভিজে একাকার হয়।

‎​কখনো কি ভেবেছো, নাম না থাকাটাও কত সুন্দর?
‎আমাদের কোনো দাবি নেই, কোনো অধিকারের লড়াই নেই,
‎আছে শুধু এক আকাশ মায়া আর গোপনে লালন করা দীর্ঘশ্বাস।

‎অনামিকা-
‎তুমি আমার সেই বিষণ্ণ বিকেল, এক জীবন তৃষ্ণা,
‎যেখানে সূর্য ডুবলেও তোমার মায়ার আলো নেভে না।

পরে পড়বো
২৫
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন