অনামিকা, তুমি কি জানো? নামহীন এই সম্পর্কের
কোনো কূল নেই,
তবুও হৃদয়ের গহীনে তোমার একচ্ছত্র বাস।
যাকে ছোঁয়া যায় না, অথচ প্রতি নিঃশ্বাসে অনুভূত হয়-
সেই অদ্ভুত মায়াজালের নামই কি তুমি?
কিছু কথা থাকে যা ঠোঁট অবধি এসে ফিরে যায়,
কিছু অনুভূতি থাকে যা কেবল চোখের কোণেই জমা হয়।
আমরা দুজনে যেন সমান্তরাল দুটি রেললাইন,
পাশাপাশি পথ চলা অনন্তকাল,
অথচ আমাদের মিলন কোনো এক দিগন্তের মিথ্যে মরীচিকায়।
তুমি আমার সেই না পড়া কবিতার কদমরানী-
যার প্রতিটি শব্দে মিশে থাকে অব্যক্ত হাহাকার।
নাম না দিয়েই যদি কেটে যায় একটি জীবন,
তবে সেই শূন্যতাটুকুই হোক আমাদের চিরস্থায়ী বাঁধন।
অনামিকা,
তুমি আমার ছিলে না বলে আজও পাওয়ার তৃষ্ণা প্রবল,
পেলব স্পর্শের চেয়েও দামী এই ‘না-পাওয়ার’ কোলাহল।
তোমাকে সরাসরি ছোঁয়ার সাহস আমার কোনো জন্মে হবে কি না জানি না,
তাই এই নামহীন বাতাসটুকুই আমার পরম পাওয়া।
সে তোমার শরীর ছুঁয়ে আসে, আর আমি সেই ছোঁয়া বুকে মেখে একাই কাটিয়ে দিই-
সহস্র বছরের এক দীর্ঘ মুহূর্ত।
অনামিকা,
ইচ্ছে করে, ওই হাওয়ার ডানায় ভর করে বলি,
”আমি ভালো নেই তোমায় ছাড়া।”
কিন্তু পরক্ষণেই ভাবি, তুমি তো ছুঁয়ে আছ আমায়;
কখনো বিকেলের ঝিরঝিরে পবন হয়ে,
কখনো বা বৃষ্টির আগে ধুলো ওড়ানো মাতাল হাওয়া হয়ে।
অনামিকা, তোমার দিকে তাকালে মায়া বাড়ে,
অপ্রকাশিত কথার ভিড়ে বুকটা কেবল ভারী হতে থাকে।
তুমি সেই স্নিগ্ধ কুয়াশা, যাকে ধরা যায় না,
অথচ যার শীতলতায় হৃদয় ভিজে একাকার হয়।
কখনো কি ভেবেছো, নাম না থাকাটাও কত সুন্দর?
আমাদের কোনো দাবি নেই, কোনো অধিকারের লড়াই নেই,
আছে শুধু এক আকাশ মায়া আর গোপনে লালন করা দীর্ঘশ্বাস।
অনামিকা-
তুমি আমার সেই বিষণ্ণ বিকেল, এক জীবন তৃষ্ণা,
যেখানে সূর্য ডুবলেও তোমার মায়ার আলো নেভে না।
২৫

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন