সিঁড়ির নীচে একটা ছোট ঘর,সময়মতো জল আসে না,রান্নাঘরে শ্যাওলা জমে থাকে,বেডরুমে আরশোলা আর ছাঁড়পোকার নিয়মিত যাতায়াত। শাড়ি,শার্ট এদিকে সেদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে,মাঝে মাঝে তরকারি পুড়ে যাওয়ার গন্ধ পাওয়া যায়-
মাঝরাতে ওই ঘর থেকে একটা ছেলের কবিতা পড়ার শব্দ শুনি,একটা মেয়ে ছুটির দিনের ভর দুপুরে খিলখিল করে হেসে ওঠে –
ওখানে ভালোবাসা থাকে।
রাস্তার পাশে বস্তা দিয়ে বানানো একটা নোংরা বিছানা,স্বামীটা মাতাল আর বউটা মস্ত ঝগড়াটে। তবুও হুট করে বৃষ্টি নামলে ওরা ভেজা পাখির মত গুটিসুটি হয়ে বসে থাকে একটা ভাঙা দোকানের চালের নীচে। বউ বাজের শব্দে ভয় পেলে স্বামী খপ করে হাত ধরে বলে, “ডরাইস না বউ, আমি তো আছি। “
ওখানে ভালোবাসা থাকে।
বৃদ্ধাশ্রমে কপালভর্তি সিঁদুর পরিহিতা একজন বুড়ি মা রোজ রোজ শয্যাশায়ী স্বামীর কপাল ছুঁয়ে ঈশ্বরের কাছে ফিসফিস করে কী যেনো বলে যান,ঈশ্বর শুনতে পান কিনা জানি না তবুও ডাক্তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে লিখে দেন একটা ব্যস্ত প্রেসক্রিপশনে৷
আমি নিশ্চিত,ওখানেও ভালোবাসা থাকে।
স্মৃতিতে,সিঁথিতে,আদরে,ঝগড়া আর অভিমানে,অন্ধকারে,ভোরে,হিসেবের খাতায়,মৃত্যুশয্যায়,আড়ালে,লজ্জায়,অসময়ের বৃষ্টিতে অথবা তীব্র শীতে,মিছিলে,সভায়,পার্কে, ব্যস্ত অফিস শেষে ঘরে ফেরার আনন্দে ভালোবাসা বেঁচে থাক পৃথিবীর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
২৬

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন