কসবা-পঞ্চাননতলা থেকে মেয়েরা এসে বাড়ির কাজ করে যায়।
রমণী চাটুজ্যে স্ট্রীটের এই শেষ বাড়িটা হচ্ছে অসভ্য দাদাবাবুদের।
মেয়েরা টিপে টিপে হাসে, চোখ মটকে ইঙ্গিত করে :
অসভ্য দাদাবাবুদের বাড়ি।
স্বাধীন চার বাইয়ের ছটা বড় বড় ঘর। মাঝে মাঝে কাজিনরা
এসে রাত কাটিয়ে যায়,
অসভ্য দাদাবাবুদের বাড়ি জেন মঠের মতো চুপচাপ।
এ বাড়ি কি মহেশ যোগীর কোনো আর্কিটেক্টের করা?
স্পাইরাল গ্যালাক্সির মতো অচিন্ত্যনীয় সিঁড়ি…
আড়ি পাতার জন্য ছোট ছোট ফোকর আছে দেয়ালে…
সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামার সময় গোপন সুড়ঙ্গ থেকে হাওয়া এসে
শাড়ি উতলা করে…
ধ্যানঘরে অন্ধকার— হার্ট লাং ব্রেন সার্জারি টের না পাওয়া
চেতনালুপ্ত অন্ধকার…
রান্নাঘরে অনেক রকমের যন্ত্রপাতি— দাদাবাবুরা
কোনো কথা বলে না, হাতে ধরে রান্না শেখায়।
চার ভাই মিলে অনেক মাইনে দেয়— মেয়েটির
সন্দেহপুলক জন্মে : অসভ্যই যদি না হবে তো এত মাইনে দেবে কেন?
ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘটবে ঘটবে করে কিছুই ঘটে না,
তাই আরো ভয় করে : যেন অদৃশ্য স্তম্ভের মাথায়
বাজ চিল ঈগল কণ্ডর বসে আসে— স্তব্ধ,
ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে— ঝপ করে মাছটিকে ধরে নিয়ে
নিস্তব্ধ নিঃসঙ্গ বসে বসে খাবেই একদিন।
নিরবচ্ছিন্ন প্রতীক্ষা, আধ্যাত্মিকতা, আত্মসমর্পণ।

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন