কোথাও আরম্ভ নেই, শেষ নেই। তবু মানুষের দেশে ঢেউ
মানুষেরা কুলোর বাতাস নাড়িয়ে নাড়িয়ে তোলে। ফেউ
না ডাকলে রাতের চৌকিদার
রাতের স্রোতের মধ্যে মিশে যেতে পারে— এই ভয়ে
মানুষেরা বিকেলের নিস্তরঙ্গ আলোয় ভানতে ভানতে ধান,
বাঁশঝাড়ে সূর্য পাটে বসলেও, ঢেঁকিশালে পা ছড়িয়ে গায়
শিবের বিয়ের গান।
হায়! তুচ্ছ মাছিটিও সোনার মতন সনাতন মলে ও কমলে।
শুধু আমাদেরই,
শুধু আমাদেরই কৃতকর্ম নড়েচড়ে প্রতিবেশীদের নষ্ট জিভে।
ধেয়ে আসে
কুলোর বাতাস!
অতশত কে জানত!— তাড়া করতেই আমি আপাদমস্তক ভীরু
পালিয়ে পালিয়ে মগডালে…
তবু মাটির নিচের গাঢ় মাটি সরিয়ে মাটির অশরীরী
বলেছিলঃ
এই পৃথিবীতে যার আজ কোন চিহ্ন নেই— যে ছিল অনেকদিন আগে
পোড়া ভিটের পোতায় তার দড়ির মতন শিরা, মরা চুল, আংটির কাঁচ
বিঁধে আছেঃ লোকাপবাদের স্মৃতি।
গাছের গুঁড়ির ফাঁকে বনময় সায়ং হিমের নিচু স্রোত
ঘুমন্ত নাচুনী যেন অদ্ভুত ভঙ্গিতে আঁকাবাঁকা—
সাবধান!
চেঁচিয়ে ওঠার আগে কেউ, আমি উড়ে গিয়েছি সেখানে…
বন থেকে শীতহিম পোকার ঝাঁকের মতো ওঠে
জগৎকুয়াশা আরো ঘন হয়
দেখা যায় না এপার ওপার

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন