ফালগুনী রায়

কবিতা - ফ্রেশ ইনফরমেশন

ফালগুনী রায়
মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫ অন্যান্য কবিতা

ভাদ্রের রৌদ্র আমায় কুকুরের কামোত্তেজনা জানানোর বদলে জানাল শরৎ এসে গ্যাছে-আমি নক্ষত্র ও নৌকার নিহিত সম্পর্কের কথা জানলুম নদীর নিকটবর্তী জেলেদের কাছ থেকে-মেরিন ইঞ্জিনিয়ার পাশ করা আমার এক বন্ধু কম্পাসের সাহায্যে সমুদ্রের দিক নির্ণয়ের কথা জানিয়েছিল আমি মরে গেলে আমার চারধারে আর চারদিক থাকবে কি?

ভাদ্রের রৌদ্রে শরতের আভাষ তখন পাবে অন্য কেউ যেরকম আমার বাবা যে কাঁচামিঠে গাছের আম খেয়েছিলেন তিনি মারা যাবার পর আমি সেই কাঁচামিঠে গাছের আম খাচ্ছি-এ ভাবেই আমি মরে যাবো কাঁচামিঠে গাছের আম তখন খাবে আমার উত্তর পুরুষ অর্থাৎ আইনষ্টাইন ও রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত কথোপকথনের মতন ব্যাপারটা অর্থাৎ মানুষ না থাকলে সুন্দর অ্যাপোলো মূর্তির সৌন্দর্যের কোনো তাৎপর্য থাকবে না কিন্তু মানুষ না থাকলেও পৃথিবী সূর্য ব্রহ্মাণ্ড থেকে যাবে ঠিকঠাক

মানে আমি বলতে চাইছি মানুষ না থাকলে আমটী কাঁচা অবস্থাতেও মিঠে থাকবে কিন্তু সেটা বলার কেউ থাকবে না-সুতরাং সূর্যকে সূর্য মোমবাতিকে মোমবাতি মানুষই বলেছে-মানুষই বলেছে নরের পূর্বপুরুষ বানর বা নরগণ ঘোষণা করেছে এরূপ বিদ্যা ফোনেটীকস অইরূপ বিদ্যা ফিললজি সেইরূপ অসুখ ফাইলেরিয়া এইরূপ প্রত্যংগ ফ্যালাস ইত্যাদি ইত্যাদি

এমতঅবস্থায় আপন কণ্ঠস্বর খুঁজতে গিয়ে যদি কোনো কবি খাবি খায় তবে আমরা আর কিইবা করতে পারি-আমার প্রপিতামহ যাকে বলেছিলেন জল আমিও তাকে বলছি জল-আমার প্রপিতামহ যাকে বলেছিলেন আগুন আমিও তাকে বলছি আগুন-মানে বাবারা যা বলে গ্যাছেন ছেলেরাও তাই বলছে নাতিরাও তাই বলবে অর্থাৎ বস্তুর বস্তুগত নামটি একই থাকবে কেবল পাল্টাবে তার ধারণা যেমন আদিকালে পুরুষাঙ্গকে প্রজনন প্রত্যংগ হিসেবেই দ্যাখা হ’ত-বর্তমানে পুরুষাঙ্গকে টেলিপ্যাথিক কম্যুনিকেশনের রাডার হিসেবেও দ্যাখা হচ্ছে-অনেকেই আপেল-কে গাছ থেকে পড়তে দ্যাখে কিন্তু নিউটন কেবল আপেলের পড়াটাই দ্যাখেননি দেখেছিলেন তার সঙ্গে মাধ্যাকর্ষণ-ভাস্করাচার্য অবশ্য ল অফ গ্রাভিটেশন-কে অন্যভাবে আবিষ্কার করেছিলেন এবং কোপার্নিকাসের অনেক আগেই আর্যভট্ট আবিষ্কার করেছিলেন পৃথিবীর সূর্যকেন্দ্রিক আবর্তন-এইসব ঘটনার দ্বারাই প্রমাণিত হয় একই সত্য-কে বিভিন্ন আবিষ্কারক ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে মত আবিষ্কার করেন অনেকটা রামকৃষ্ণের বিখ্যাত উক্তির মত যত মত তত পথ নিয়ে মানুষ-মানুষের ঐক্যের ভেতর এ ভাবেই বৈচিত্র্য ও বৈচিত্র্যের ভেতর ঐক্য খেলা করে-শুধু জ্ঞানান্ধ সমালোচকরা সত্যের গুহায় বসে বলে দ্যান-

অমুক তমুকের চর্বিতচর্বন ছাড়া কিছু নয়-হায় হায়-বিদ্যাসাগর অ আ ক খ শিখেছিলেন অন্যের কাছ থেকে তারপর নিজেই প্রণয়ন করেন বর্ণপরিচয়-হে মহান সমালোচকগণ জানান আমায় বিদ্যাসাগর কার চর্বিতচর্বন ছিলেন-জানান-জানান-ভাদ্রের রৌদ্র আমায় কুকুরের কামোত্তেজনার খবর জানাবার বদলে জানিয়েছে শরৎ এসে গ্যাছে-আপনিও অইরকম কিছু ফ্রেশ ইনফরমেশন দিন-নাকি মাও কোট পরে আপনি কোট করবেন টাওইষ্ট মতবাদ-গলায় ক্রুশ ঝুলিয়ে আপনি একহাতে রামকৃষ্ণ লীলাপ্রসঙ্গ অন্যহাতে হ্যাভলক এলিস রেখে বলে উঠবেন- লেনিন বলেছেন না-সন্ন্যাসী না-ডনজুয়ান এর মাঝামাঝি জায়গায় আমাদের থেকে যেতে

কোনটা স্যার ?

পরে পড়বো
১১৩
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন