গল্প — কেন আছি আর কেন বাঁচি

মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫ জীবনবাদী

আমি: বাঁচতে চাই। অথচ আমার মনের সব অভিলাষ অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে। এত বাধা পাচ্ছি যে মাঝে মাঝে মনে হয় বেঁচে থাকাটাই অর্থহীন। মনে হচ্ছে কিছুই করতে পারছি না, জীবনে কিছুই হচ্ছে না।

মন: সবাই যেভাবে বাঁচে, তোমাকেও সেভাবেই বাঁচতে হবে।

আমি: মনে হয় বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।

মন: তুমি মরে গেলে গোটা পৃথিবী তোমার জন্য কাঁদবে না। হ্যাঁ, কিছুদিন হয়তো যারা তোমাকে খুব ভালোবাসে তারা দুঃখ পাবে, কাঁদবে; কিন্তু ধীরে ধীরে তারাও পৃথিবীর নিয়ম মেনে নেবে। তোমাকে ভুলে গিয়ে আবার বাঁচার লড়াই শুরু করবে, যেমনটা তুমি আজ করছ।

আমি: এভাবে বেঁচে থেকে লাভ কী?

মন: দেখো, এখন তোমার মনে হচ্ছে বেঁচে থাকাটা অর্থহীন। কিন্তু যখন মরার সময় আসে, তখন মানুষ শত কষ্টেও বেঁচে থাকতে চায়। যার গোটা শরীর অসার, সেও বেঁচে থাকতে চায়; যার হাত-পা নেই, সেও বাঁচতে চায়; যে সারাদিনে আধপেট খেতে পায়, সেও বাঁচতে চায়; আবার যার কাছে একটা সাধারণ ঘরে শান্তিতে ঘুমানো একটা স্বপ্ন, সেও বেঁচে থাকতে চায়। আবার যার কাছে পয়সার কোনো মূল্য নেই—এত অর্থ যে যেকোনো জিনিস পেতে পারে—তারও সব ইচ্ছে কিন্তু কোনোদিন পূরণ হয় না। সেও তার ইচ্ছেকে অনুসরণ করে সুখী হওয়ার চেষ্টা করতে করতে একদিন অগাধ সম্পত্তির মালিক হয়েও অপূর্ণ ইচ্ছা নিয়েই মারা যায়।

আমি: আচ্ছা, তাহলে প্রকৃত অর্থে বাঁচা কী? জীবনের ইচ্ছেই যদি পূরণ না হলো, তবে বেঁচে থাকা কেন? সারা জীবন মানুষ কেন এত কষ্ট করে?

মন: ইচ্ছা পূরণ মানে কিন্তু আকাশের চাঁদ পাওয়া নয়। সেই অর্থে ইচ্ছে কোনোদিনই পুরোপুরি পূরণ হয় না। সাধ আর সাধ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রেখে বেঁচে থাকাটাই অপেক্ষাকৃত সুখী জীবন।

আমি: সুখ কাকে বলে?

মন: তুমি যখন যে অবস্থায় আছো, সে অবস্থাতেই তৃপ্ত থাকতে পারলে তুমি সুখী। অতিরিক্ত কিছু না চেয়েও তুমি যেভাবে আছো তাতে যদি তৃপ্ত থাকো, সেটাই সুখ। আর চেয়ে না পাওয়াই হলো দুঃখ।

আমি: তাহলে তো জীবন স্থবির হয়ে যাবে! মানুষ কেন কাজকর্মে মন দেবে? কেন কষ্ট করবে? যা আছে তাই নিয়ে বসে থাকবে? যার পেটে ভাত নেই, সে কি তবে হেসে হেসে অনাহারে মরে যাবে?

মন: সেটা তো নিষ্ক্রিয় জীবন। কিন্তু জীবন মানেই হচ্ছে ক্রিয়াশীল সত্তার ক্রমোন্নতি।

আমি: সেটা কী?

মন: তোমার যে কারণে পৃথিবীতে আসা, সেই কারণটি জেনে ক্রমোন্নতির মাধ্যমে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়াই হলো জীবন।

১৬৩ বার পঠিত রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

লেখকের অন্যান্য প্রকাশনা