মৃত্যুর ডায়েরী —
আজ পাতা উল্টাই, ধূসর মলাট ধরে,
লেখা আছে কোথায় জন্মের সেই ঘরে।
প্রথম শ্বাসের বায়ু, কান্না আর ভয়,
শেষ পৃষ্ঠা কবে হবে জীবনের ক্ষয়।
প্রতিটি দিন যেন এক নতুন নাম,
ডায়েরীর ভাঁজে জমে ক্লান্তি অবিরাম।
কিছু ভুল, কিছু হাসি, কিছু চাপা শোক,
পাতায় পাতায় লেখা জীবনের ঝোঁক।
শৈশবের পাতা ভরা মাটির গন্ধ,
খেলনার হাসিতে ফুটে নির্ভেজাল আনন্দ।
মায়ের চোখের আলো, বাবার স্নেহের ছায়া,
সেই দিনগুলো আজ শুধুই কল্পনামায়া।
যৌবনের পাতায় রঙিন আগুন জ্বলে,
স্বপ্নেরা হারিয়ে যায় অচেনা তলে।
ভালোবাসা আসে, আবার মিলায় দূরে,
রয় শুধু নীরবতা হৃদয়ের সুরে।
বন্ধুরা সবাই কোথায় মিলিয়ে গেল,
চেনা মুখগুলো সময় মুছে ফেল।
হাসির সেই রাত, গল্পে ভরা দিন,
রয়ে গেছে শুধু নীরব স্মৃতিবিন।
বছরের পর বছর পাতায় জমে ক্ষয়,
অক্ষরে অক্ষরে লেখা বেদনার জয়।
যত আশা ভাঙে, তত নীরব রাত,
বেঁচে থাকা মানে কেবল হাহাকার ঘাত।
শেষের আভাসে এখন বাতাস নীরব,
অপেক্ষা করে শুধু এক শেষ অনুভব।
কলমের ডগা থেমে, থেমে যায় হাত,
আর কোনো শব্দ নেই—শুধু নিঃশব্দ রাত।
দিনের হিসেব মেলে না—বাকি শুধু নাম,
অন্ধকার ছুঁয়ে আসে নীরব বিশ্রাম।
জানালায় চাঁদ হাসে, তারাদের মেলা,
আমার ডায়েরী শুধু শেষ পাতা গোনে বেলা।
কিন্তু এই শেষও হয়তো শেষ নয়,
অন্য এক শুরু লুকিয়ে রয়।
যেখানে ক্ষয় মানে নতুন আলোয় ভোর,
সেখানে লেখা থাকবে—“আমি এখনো ঘোর।”
তবু হয়তো মৃত্যু মানেই নয় শেষ,
আরেক দিগন্তে খোলে আলোয় ভেসে রেশ।
যেখানে দুঃখ নেই, নেই কোনো ভয়,
সেইখানেই লেখা থাকবে—“আমি অমর রয়।”

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন