Amarendra sen

কবিতা - কি ভাবছো তুমি অপরূপা-১

Amarendra sen
রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬ রূপক কবিতা, সাম্য-জীবনমুখী কবিতা

কি ভাবছো তুমি অপরূপা—
চিরদিন রয়ে যাবে অধরা?
খুশি হতে চেয়েছিলেম
শুধু তোমার ছোঁয়াটুকু নিয়ে—
মনে প্রাণে রয়ে আপামর,
আমি এক কায়া-লিপ্সু নর।
মিশে গেছি কবে সেই
পৃথিবীকে দেহটুকু দিয়ে,
হয়নি পূরণ বাঁধিবার ঘর—
এই ধরণীতে অবিনশ্বর।

তোমার সেই সুন্দর অপরূপ—
জ্যোৎস্নার মতো মনোহর রূপ,
একে দিয়েছিলো বোধহয়
এসে কোনো এক স্বর্গের দূত;
অমন তনু, আনত অতনু;
আতর ছরিয়ে হৃদয়-আকাঙ্খার;
যে পথ দিয়ে তুমি চলে যেতে—
পার্থিব ইচ্ছা উথ্লে উঠত মেতে;
আজো আসে ক্ষীণ মনে—
লুপ্ত হৃদয়ের কোণে কোণে।

তোমার সুন্দর আঁখি দুটি;
আকাশ ছাড়িয়ে দেখত চেয়ে
সুদূরের কত যে নীহারিকা—
তবু দেখেনি তারার শেষ শিখা ।
মাটির অপরাজিতা থাকত চেয়ে—
সখী হতে তোমার শাখাতে ফুটি।

সেই কবে আমার মিটে গেছে
অস্তিত্বের সব চিহ্ন খয়িষ্ণু ধরায়—
ভাবছিলাম আজ অপরূপা তুমি,
খোঁজ নিয়ে দেখি আছ কোথায়?

যেই সুতনু বুকে মাথা রেখে—
সুখের স্বপ্ন জ্যোৎস্না মেখে;
আনন্দে ভরে যেত হৃদয়—
উঠেছে জেগে চারা লতা ঘাস,
বসন্তের বাতাস করে হাহুতাশ,
আর আঁখির ‘পরে শুধু নীলাকাশ।
(পুরুষ নারীর বাহ্যিক রূপে মুগ্ধ হয়ে সেই সৌন্দর্য আস্বাদন করতে চায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার অন্বেষণ গিয়ে থামে নশ্বর দেহের আচ্ছাদনে। এতে জীবনের প্রকৃত তৃষ্ণা মেটে না। অন্যদিকে, রূপসী নারী স্বপ্ন দেখে তার এই লাবণ্য দিয়েই সে জগত জয় করবে এবং বেঁচে থাকবে অনন্তকাল।

কবি এখানে অকপটে স্বীকার করেছেন যে, এই নশ্বর দেহের বিনাশ অনিবার্য; কারণ অবিনশ্বরতার আকাঙ্ক্ষা অধিকাংশ সময়ই অলীক ও মিথ্যে। আজ যখন সেই অপরূপাকে পুনরায় খুঁজতে যাওয়া হয়, তখন দেখা যায়—তার হৃদয়ে জন্ম নিয়েছে লতাগুল্ম আর সেই মায়াবী চোখের ওপর থমকে আছে অনন্ত নীল আকাশ।)

পরে পড়বো
১৯
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন