বন্ধু হবি
বন্ধু হবি
মানব মন্ডল

গল্প - বন্ধু হবি

মানব মন্ডল
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬ ভালোবাসা

য  মানুষটার কষ্ট কথা পড়ে দুঃখ পাওয়া উচিত  কিন্ত মনটা ভীষণ খুশি হয়ে গেল।  আসলে আমার প্রিয়  প্রিয় মানুষটার হাসির  কারণ ছিল  অন্য কেউ।  আজ দুঃখের  কারণ  অন্য জন।  আসলে আমিও  তো  অপেক্ষায় ছিলাম  এই সম্পর্কের ভাঙনের।  আমি জানতাম  ওর  মতো আত্মবিশ্বাসী মেয়ের ওপর  স্বামীত্বের দাবী করলেই বিপদ ঘটবে। ওর লেখা পড়লেই ওর  চরিত্র  অনুমান  করতে পারবেন।
ও লিখলো=

একটা বয়সের পর যখন দেখি হাজারটা প্রতিশ্রুতি দিয়েও মানুষটা তার কথা রাখলো না, তখন আর তাকে শাপশাপান্ত বা গালিগালাজ করতে ইচ্ছে করে না, তার ভালোবাসার চিঠি গুলোও পুড়িয়ে ফেলতে ইচ্ছে করেনা বরং তাকে মন দিয়ে ক্ষমা করতেই ইচ্ছে করে।

একটা বয়সের পর যখন দেখি, সারাজীবন পাশে থাকবো বলেও মানুষটা হুট করে চলে যেতে চায়, তার প্রতি কিন্তু অজস্র রাগ, অভিমান জমা হতে থাকে বুকে, দমচাপা কান্নাও বেরোতে চায় চোখ ফেটে তারপরও বিদায়বেলায় ঠোঁটে একটা ছোট্ট হাসি রেখে বলতে ইচ্ছা করে “ভালো থেকো”।
আজ কাল মানুষ চরিত্র বদলছে । আমরা সোশাল মিডিয়া নির্ভর।আমিও  তাদের বতিক্রম না। সরাসরি যার চোখের  দিকে তাকালেই পারি না তাকে  মনের  কথা বলতে পারার টা কঠিন কাজ  ছিলো। তবুও   সোস্যাল মিডিয়ার দৌলত  আমিও  মনের  কথা প্রকাশ  করলাম।  লিখলাম  মনের  কথা।

“আমি জানি তুমি অনেক  সুন্দর।  তাই  তোমার  পুরুষ বন্ধুর  অভাব নেই হয়তো। তার তোমাকে অনেক ভালো কথা বলে চনমনে রাখে।তাই  তুমি অনেক গতিশীল আর আশাবাদী।
উল্টো দিকে আমি ভীষণ  অগোছালো, জীবন নিয়ে উদাসীন,  সুপুরুষ (হনসাম) না। আমার  সবচেয়ে খারাপ সময়ে তুমি আমার  পাশেছিলে তোমার অজান্তেই। জীবনের একটা সময়ে তুমি হয়েছিলে আমার  জীবনের ঘুরে দাঁড়ানোর  প্রেরণা। ফিনিক্স পাখির মতো  আমিও  হয়ত  বেঁচে উঠেছিলাম।  তবে একটা আকাশ  খুঁজে ছিলাম বাঁচার জন্য।  কিন্ত আশ্রয পাই নি আমি।
সেইদিন তোমার দিকে সহযোগিতার হাত  বাড়াতে আমি চাই নি। আমি নিজেই  একটা হাত  ধরতে চাই  যে আমাকে জীবনের পথে সঙ দেবে।আমি নিজেই অবলম্বন খুঁজছিলাম।
তুমি  শিল্পী।  একটা সাদা কাগজের  রঙ দিয়ে , তাতে প্রাণ  এনে  দাও।  তাই শত ঝড়  ঝাপটা পরেরও  প্রাণবন্ত।
উল্টো দিকে আমি। আবার ধংসস্তুপ। তবুও  ভীষণ  অহংকারী। একটা আশ্রয ভিক্ষা করতে দ্বিধাগ্রস্ত। বলতে শিখিনি  তুমি আমার  প্রয়োজন।”
ও সরাসারি  কথা বলতে ডালবাসে। বেশ কিছুক্ষণ  বাক যুদ্ধের পর হার মেনেই  নিলাম।
তার কথাগুলো বিশ্লেষণ  করলে ,  এটুকুই  বোঝাতে  যায় , সে এখন  একা থাকতে চায়। সে সফল  হতে চায় কারো সাহায্য  ছাড়াই। ওর কথায় ওর সাথে কেউ  বেশি দিন  মানিয়ে  নিতে পারবে না। কারণ  ওর বাইরের রূপ  দেখে  মুগ্ধ  হয়ে  কাছে আসা মানুষ  গুলো , ওর  ভিতরের  মানুষটার  সাথে  তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। কিন্ত  আমি তো ওর ব্যক্তিত্বকেই আমি  ভালোবাসেছি। তাই  শুধুমাত্র  বন্ধুতের  প্রস্তাব দিয়ে, যুদ্ধের ইতি টালাম।
ঘটনায় নাটকীয় এলো যখন ও আমার হাফ ডেটিং রাজি হয়ে গেল সহজেই।  কিন্ত  আমি সত্যিই  কি একা দেখা করতে যাবো কিনা এই একাটা  প্রশ্ন  আমাকে বড় বিপদে ফেলে দিলো। সত্যিই  এক দেখা করাটা আমার পক্ষে নিরাপদ  না। কারণ  প্রেমের ব্যাপারে একটু অনভিজ্ঞ।  তাই কাছের কোন  মানুষের  সাথে  থাকলে ভালো হয়। ওর পিসতুতো  বোনকে আমন্ত্রণ  জানাতে বললাম।
ও রেস্টুরেন্ট  ঢোকার পর থেকেই  ওর হাসিটায় একটা একটা দুষ্টুমি  দেখতে  পেলাম।  ওর  সাথে কথা বলতে গেলেই  আমি এমনিতেই  কোস্ট কাঠীন্যা রোগী  হয়ে যাই তার ওপর  হাসিটা আমাকে আরো বিপদে  ফেলে দিলো। তাই  ওর পিসতুতো বোনর জন্য  অপেক্ষা করছিলাম। কিন্ত  সে আসতে  আমার  বিপদ  আরো  বরে গেলো।
ওর  পিসতো বোন সরাসারি  আমাকে বিবাহের  প্রস্তাব  দিয়ে বসলো।  অতএব  ওর দুষ্ট হাসির  কারণ আমি বুঝতে পারলাম।  কারণ আমি যে ওকে  ভালোবাসি সেটাও ওর  বোন  জানে। অদ্ভুত  ভাবে ওর  বোন  দাবি করলো।  যেহেতু ছোট বেলা থেকেই   ওরা সবকিছুরই  শেয়ার  করে থাকে। তাই  আমাকেও  ওরা ঠিক  শেয়ার  করে নেবে।
আমি সমাজের  দোহাই  দিতে ওরা মহাভারত  দ্রৌপদী কথা উল্লেখ  করলো। এবং বললো  পুরুষ  বলেই  স্ত্রী ভাগের  অধিকার  পেলো।  নারী বলে তারা  কেন  সে অধিকার  পাবে না।
সে যাত্রার  পরি কি মরি করে পালিয়ে বাঁচলাম।  নিয়মিত  শুভ সকাল,  শুভরাত্রি বলা দূরে থাক  ওর স্ট্যাটাস দেখা ছেড়ে দিলাম।  দিন চার পর ও হাজির  হলো আমার  বাড়িতে। তবে আমার  সাথে দেখা করতে নয়,  মায়ের  কাছে রান্না শিখতে ওর পছন্দের মানুষটার জন্য।
মা বললো  ” এ সব রান্না বাবুর  পছন্দের।  ইস ষদি তোর পছন্দের মানুষটা যদি বাবু হতো। তাহলে আমি নিশ্চিন্তে মরতে  পারতাম। ”
আমি খাবার  টেবিল  বসে বিষম  খেলাম  মায়ের  কথা শুনে।  দুই  নারী ছুটে এলো আমাকে সালামতে।  কিন্ত  মা আমাকে না সামলে ওর  চিবুক ধরে চুমু  খেলো ওর কপালে। ওকে আদর করতে ব্যাস্ত  হয়ে গেলো,  আমাকে গুরুত্ব  না দিয়ে।

পরে পড়বো
২১
মন্তব্য করতে ক্লিক করুন