একটি ঘড়ি আছে,
যার কাঁটা সবসময় ভেতরেই ঘোড়ে।
সময়কে নয় বহন করে নিজের ওজনকে।
লোকেরা বলে, ঘড়ি নষ্ট।
কারণ তা পৃথিবীকে জানে না।
শুধু জানে সময় থেমে গেলে,
বাইরে কিছুই আর চলে না।
একটি গাছ আছে,
যে নিজের শিকড়কে পানি দেয়।
পাখিরা অভিযোগ পুষে রাখে,
কারণ তাদের ছায়া পেতে দেরি হয়।
তবে গাছ কিছু বলে না, নিজেই ব্যাস্ত থাকে।
কারণ সে জানে, শিকড় শুকালে
ছায়া চিরতরে হারিয়ে যায়।
একটি মানুষ আছে,
তবে তার নেই কোনো নাম ,
না আছে কোনো পরিচয়।
তার স্বপ্নরা জন্মে নীরবতায়।
যেখানে হাততালি নেই,
আছে শুধুই প্রয়োজন।
সে কষ্টকে অবহেলা করে না,
কারণ অবহেলা করা কষ্টরা
একদিন ভাষা শিখে ফেলে।
সে আনন্দ লুকিয়ে রাখে,
কারণ ক্লান্ত হৃদয়ে আনন্দরা ভেঙে যায়।
অনেকে তাকে স্বার্থপর বলে।
সে শব্দটা কুড়িয়ে দেখে-
তার ভেতরে কি সত্যিই বিষ আছে!
নাকি শুধু মানুষের মুখের বিষেই সে দগ্ধ?
সে কাউকে বাঁচানোর প্রতিশ্রুতি দেয় না।
শুধু নিজের ভেতরের ঘরটি জ্বালিয়ে রাখে।
কারণ আলো যদি থাকে অন্ধকারের প্রান্তে,
তবে পথ চিনে নিজেকেই নিজে উদ্ধার করা যাবে।
আমাদের গল্পে কেউ নায়ক নয়,
আবার কেউ ভিলেনও নয়।
শুধু একটি কেন্দ্র আছে
যার অনুপস্থিতিতে
চারপাশের সব আলো, সব সম্পর্ক,
ধীরে ধীরে দিগ্বিদিক শূন্য হয়।
কেন্দ্রটা থাকলে,
অর্থরাও নিজেরাই জেগে ওঠে।
আর কেন্দ্রটা ভেঙে গেলে,
সবকিছু ঠিকঠাক চলার ভান করে।
কিন্তু ভিতরে? ভিতরে
অর্থহীনতার দিকে গড়িয়ে যায়।
©_অরণ্য
#অনিকেত_কান্তা

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন