তোমার ছাদের টব—
এক মুঠো পৃথিবী;
সেখানে আমি—অপরাজিতা নয়,
নীল বিদ্রোহের এক গোপন উচ্চারণ।
জল ঢালো তুমি—
জল?
না কি ইতিহাসের গায়ে জমে থাকা
জাত-ধর্মের শুকনো রক্ত ধুয়ে ফেলার চেষ্টা?
আমার শিকড় ভিজে ওঠে—
কোন গঙ্গা, কোন ফোরাত নয়,
শুধু মানুষের ঘাম মেশা জলের স্বাদে।
আমি ফুল—
আমার কোনো নামাজ নেই,
কোনো আরতি নেই,
কোনো বংশলতিকার গর্বও নেই,
শুধু রোদ্দুরের দিকে বাড়িয়ে দেওয়া
দু’একটা নির্বাক পাতা।
তুমি ঝুঁকে পড়ো—
তোমার কপাল থেকে খসে পড়ে
সব চিহ্ন!
তিলক, টুপি, রক্তের অহংকার!
আমি দেখি,
একটি ক্লান্ত মানুষ
নিজেকেই খুঁজছে আমার নীলের ভেতর।
বিকেল নামে,
আলো একটু জংলি হয়ে যায়,
জীবনানন্দের মতো পথ ভুলে ফেলে—
আমরা কথা বলি—
শব্দহীন, তবু কোলাহলময়,
নজরুলের বুকের ভেতর লুকোনো
একটা অদৃশ্য বিদ্রোহের সুরে।
আমি জানি, কেউ কেউ ছিঁড়তে চায়
এই নীরব অমান্যতা,
যেখানে ভালোবাসা
ধর্মের কাঁটাতার টপকে যায়
এক লাফে।
রাতে
ছাদের ওপর একটু চাঁদ পড়ে থাকে,
তুমি দাঁড়াও,
আমি ফুটে থাকি
আমাদের মাঝখানে কোনো নাম নেই,
কোনো বিভাজন নেই
শুধু মাটি,
আর সেই মাটির গভীরে
একটা অনন্ত, সমান শব্দ—
মানুষ।
………

মন্তব্য করতে ক্লিক করুন