আলোচনা — বিষের বাঁশি

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

‘দাঙ্গা’ শব্দটার রঙ অবস্থাভেদে নানা রকম। কখনও ঘন কালো, নিঃসীম অন্ধকার কখনও বা গাঢ় রক্তবর্ণ। শব্দটার শরীর থেকে উঠে আসে তাজা ও শুকনো রক্তের গন্ধ, পোড়া লোমের গন্ধ, আরও কত কি? তাই শব্দটার সমগ্র চালচিত্র জুড়ে রয়েছে মৃত্যু, ধ্বংস আর বিষাদের করুণ কাহিনির ছড়াছড়ি; রয়েছে হতাশা, নৈরাজ্য আর মৃত্যুর গন্ধ। এরকমই একটি ‘শব্দকে’ নিয়ে, শব্দের বিষয়কে নিয়ে প্রবন্ধ রচনা তাই যতটা না কষ্টকর ততোধিক বেদনাদায়ক।
বেদনাদায়ক এই কারণে যে, এখনও এই বিষয় নিয়ে আমাদের লিখতে হয়, লিখতে হচ্ছে। লেখার ইচ্ছে জাগে না-তবুও লিখতে হয় প্রাণের তাগাদায়, বিবেকের তাড়নায়। তাই একে এড়ানো যায় না। সলিল ভট্টাচার্যের কথাটা প্রণিধান যোগ্য,”ঘরের ভিতর চিলেকোঠার গোপন স্মৃতির ছলে” এখন আর মগ্ন হয়ে থাকা যায় না। বরং হৃদয়ের রক্ত ঝরিয়ে, স্মৃতির বেড়াজাল ছিন্ন করে, তন্ন তন্ন করে খুঁজে আনতে হয় এর উৎস, ইতিহাস, বিকাশ এবং পরিণতির বিভিন্ন পর্যায়গুলি। নির্দেশ করতে হয় তার উপশমের, তার নিবৃত্তির দিককেও।

দাঙ্গার সাথে সাম্প্রদায়িকতার যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন। সাম্প্রদায়িকতাকে যদি বৃক্ষ বলি, ‘দাঙ্গা’ তাহলে তার ফল। অনেকটা ডিমের মত, তাপ পেলে বাচ্ছা ফুটে, না পেলে সমস্যা নেই। তাই সম্প্রদায়িকতার বিষয়টি একটু সংক্ষেপে আলোচনাযোগ্য।

আমাদের সাধারণ দৃষ্টিতে ও ভাবনায় মনে হয় ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু তা নয়। বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতা উভয় বিষয়ই এক একটি স্বতন্ত্র বিষয়। ধর্মনিষ্ঠা ও সাম্প্রদায়িকতা উভয়েই স্বাতন্ত্র্যে পুরোপুরি নিরপেক্ষ। মনে রাখতে হবে, সাম্প্রদায়িকতা যেমন ধর্মনিরপেক্ষ তেমনি ধর্মনিষ্ঠাও সাম্প্রদায়িকতাযুক্ত। ধর্মকে যদি সম্পূর্ণ ভাবগত দিক বলা যায়, তবে অন্যটিকে অর্থাৎ সম্প্রদায়িকতাকে অনায়াসে অতিবাস্তব বলে আখ্যা দেওয়া সম্ভব। বস্তুগত বিষয় হলেও সাম্প্রদায়িকতা একেবারে ভাবগত দিকশূন্য একথা বলা যায় না। ধর্মের যেমন একটা ভাবগত বা মনোগত দিক আছে তেমনি সাম্প্রদায়িকতার একটি বস্তুগত দিক থাকলেও তারও একটি মনোগত, ভাবগত বা দর্শনগত দিক আছে। সাম্প্রদায়িক মনোভাবেরও একটি বিশেষ দর্শন আছে। এই দর্শন মাঙ্গলিক না ক্ষতিকারক সেই প্রশ্নে না গিয়ে বরং এই দর্শন কীভাবে আমাদের মৌলবাদী চিন্তাভাবনাকে বিস্তারলাভে সাহায্য করে তা দেখার প্রয়োজন আছে। আসলে এই দর্শন একটি বিচ্ছিন্নতার দর্শন। আমাদের সমাজ, জীবন ও জগৎ নিয়ে যে ব্যাপক সমগ্রতা তার মধ্যেই সাম্প্রদায়িকতা একটি বিশেষ বিষয় বা Phenomenon-যার নিজস্ব একটি দর্শন বর্তমান। অনেকেই একে কার্ল জাসপার্সের তত্ত্ব অনুযায়ী Boarder
line situation বা প্রান্তিক সংকট বলে উল্লেখ করেন।
সমগ্র মানবসত্তা যখন তার শুদ্ধ অস্তিত্বের বিপন্নতার দ্বারে এসে দাঁড়ায় তখনই আমরা প্রান্তিক সংকটের উপবনে গিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হই। এক বিশিষ্ট গবেষক তাই বলেন, “সাম্প্রদায়িকতা মানব অস্তিত্বের খণ্ড-বিখণ্ডের সুতীক্ষ্ণ আর্তনাদ।…

মানুষ যখন সংশয়ে বিকীর্ণ হয়, সন্তাপের দহনে জ্বলে, সংঘাতে দীর্ণ-বিদীর্ণ হয়, সংক্ষোভে, সদ্রোহে বুদ্ধির সীমান্ত পেরিয়ে এমন একটি জায়গায় এসে পৌঁছে যায় যখন মানুষ তার মৌলভূমিতে এসে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়ে। তখন তার সত্তার প্রান্তিক সংকট উপস্থিত।” এখানে আত্মপর চিন্তাই প্রাধান্য পায়। যার মধ্যে দিয়ে নিঃসঙ্গতাবোধ এবং এই বোধের ওপর দাঁড়িয়ে বিচ্ছিন্নতা। এই বিচ্ছিন্নতাই এর শেষ কথা এবং এই বিচ্ছিন্নতাই সাম্প্রদায়িকতার কোষবিন্দু।

এবার আসা যাক দাঙ্গা প্রসঙ্গে। আগেই বলেছি দাঙ্গা হল সাম্প্রদায়িক মনোভাবের চরম এবং শেষ প্রকাশ। দাঙ্গা হল দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে মারামারি, হানাহানি, হত্যা, ধর্ষণ, গৃহদাহ প্রভৃতি। এই ব্যাপারে বিদগ্ধ পণ্ডিত শৈলেশ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গ্রন্থ দাঙ্গার ইতিহাসে দাঙ্গার চরিত্র বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে লেখেন, “…বিবদমান গোষ্ঠীগুলি সাম্প্রদায়িক যুদ্ধং দেহি পরিস্থিতিকে সামূহিক শক্তির ব্যাপক প্রদর্শের বিদর্শনে পরিণত করে। নিজ নিজ পাড়ার প্রবেশপথে বড়ো বড়ো জনসমাবেশের ব্যবস্থা করে-প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী স্লোগান হাঁকা এবং তারপর পরস্পরের প্রতি ইট, পাথর-ছোঁড়ার পালা শুরু হয়। উভয় পক্ষের মতেই অবশ্য এসব হয় আত্মরক্ষার খাতিরে। অতঃপর শুরু অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট পর্ব।

এ-জাতীয় তাল ঠোকাঠুকির মাধ্যমে দাঙ্গা প্রবৃত্ত যুযুধান গোষ্ঠী সাধারণত খুন-খারাবিতে যায় না। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে-যেখানে এভাবে দাঙ্গা শুরু হবার পর তাদের প্রতিবেশী ভিন্ন সম্প্রদায়ের নর-নারী, শিশুকে অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করেছে অথবা তাদের পুড়িয়ে মেরেছে। হত্যাকারীর ভূমিকা সাধারণত পালিত হয় বিচ্ছিন্নভাবে ব্যক্তির দ্বারা। প্রয়োজনে লাঠি, ছোরা, বন্দুক, বোমা এবং অ্যাসিড সবই ব্যবহার করা হয়। দাঙ্গার সঙ্গে অপরিহার্য রূপে সম্পর্কিত হিংসায় স্থানীয় অসামাজিক ব্যক্তি ও গুণ্ডা শ্রেণির মানুষদের বিশেষ ভূমিকা বিদ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে লুঠ, আগুন লাগানো এবং খুনের পিছনে-তারাই। তবে তার জন্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে কেবল আরও একধরনের বিশৃঙ্খল অরাজক অবস্থা আখ্যা দেওয়া যায় না। প্রচলিত অরাজক অবস্থার সঙ্গে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পার্থক্যটা হল এই যে-এতে সংঘবদ্ধ যুদ্ধের উপাদান বিদ্যমান।
এ যুদ্ধ কাছাকাছি প্রতিবেশীর সঙ্গে গোষ্ঠীবদ্ধভাবে-যাদের সঙ্গে প্রাত্যহিক দেখাশোনা ও লেনদেন থাকলেও পরস্পরের প্রতি গভীর বৈরীভাবের বাতাবরণ বিদ্যমান। আর স্বভাবতই এইসব বিবাদ সর্বদাই অমীমাংসিত থেকে যায় এবং উভয় পক্ষই আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পরিণামে যারা পারে নিরাপত্তার সন্ধানে ওই এলাকা ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়। আর সে-সুযোগ যাদের জোটে না মরণ তাদের কাছে বিষাক্ত হয়ে উঠে।

তারা পরবর্তী দফার যুদ্ধের আশঙ্কা বুকে নিয়ে দিন যাপন করে। দাঙ্গাপীড়িত এলাকার চরিত্র-বৈশিষ্ট্য হল স্থায়ী পারস্পরিক শত্রুভাব।”
এ হল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার চরিত্র লক্ষণ। এতে আমরা যে বৈশিষ্ট্যগুলি পাচ্ছি তা হল সাধারণ অরাজক অবস্থার সঙ্গে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অরাজক অবস্থার বিশেষ পার্থক্য বিদ্যমান। এর মধ্যে একটা সংগঠিত পরিকল্পনা থাকে। লুঠ, ধর্ষণ, হত্যা, উৎখাত এর মূল বৈশিষ্ট্য। এর মধ্যে একটা রাজনীতিও কাজ করে। বিপরীত জাতি গোষ্ঠীকে ধুয়ে মুছে সাফ করার পরিকল্পনা থাকে। বিগত দু’হাজার দু’সালে গুজরাটের যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তার মধ্যে এই শেষোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলি ভীষণভাবে পরিলক্ষিত হয়। এর সাথে সংখ্যাগরিষ্ঠ দাঙ্গাকারীদের সাথে রাজশক্তির যোগ থাকলে একেবারে সোনায় সোহাগা। Communalism Combat পত্রিকার সম্পাদিকা এবং সাংবাদিক তিস্তা সেতলাবাদ গুজরাট দাঙ্গা সম্বন্ধে তাই লেখেন, “I will not call this a ‘riot’, I think the media is wrong about that. What I am seeing here is state-sponsored ethnic cleansing and genocide. I don’t think that is sensationalising it. The carnage has all the elements of genocide-the brutal taking of life-official estimates of loss of life was a little over 700, data I have received puts it at a staggering 2,000. There has been a tremendous damage to the economy. I am told that at least 4,500 crore worth of property has been damaged. And of that, at least 80 per cent is Muslim owned property. Twenty six Dargahs and Mosques have been destroyed in Ahmedabad alone, the total figure for Gujrat will be somewhere between 250 and 300. That is quite an attempt at wiping out religious and cultural identities.”
অতএব এই একতরফা আক্রমণকে আর দাঙ্গা বলা যায় কিনা তা নিয়ে ভাবতে হবে। দাঙ্গা তো দু’পক্ষের। কিন্তু যেখানে একপক্ষ শুধুই আক্রান্ত হয়, মার খায়, খুন হয়, উৎখাত হয় সেখানে ‘দাঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করা বোধহয় সম্পূর্ণ অপপ্রয়োগ হয়ে যায়। দাঙ্গা নিয়ে বিশেষ উল্লেখযোগ্য এক গবেষণা করেছেন ঐতিহাসিক ড. সুরঞ্জন দাস। তিনি তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, ১৯৪০ দশকের আগে যে দাঙ্গাগুলি হয়েছিল তা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও শ্রেণি চরিত্রসম্পন্ন। কিন্তু পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে তারা সংগঠিত ও সাম্প্রদায়িক চরিত্র ধারণ করল। ১৮৯৭ সালে কলকাতার “টালা রয়াট”, ১৯০৬-০৭-এর ময়মনসিংহের দাঙ্গা, ১৯১৮-২৬-এর মধ্যে কলকাতা, ঢাকা, পাবনাতে যেসব দাঙ্গাগুলি হয় তার মধ্যে শ্রেণি চরিত্র ও সাম্প্রদায়িক উপাদান মিলেমিশে ছিল। ১৯৪০-এর দশকে এসে দাঙ্গার চরিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেল। ঢাকা,কলকাতা, নোয়াখালিতে এর পরিবর্তন ভীষণভাবে চোখে পড়ল। এই সময় থেকে রাজনীতির সঙ্গে দাঙ্গাকারীদের সম্পর্ক স্থাপিত হল। শুরু হল খুন, ধর্ষণ, ধর্মান্তরকরণ প্রভৃতি। এক প্রতিহিংসার বাতাবরণে ছেয়ে গেল আকাশ। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার যে বর্তমান রূপ আমরা দেখি তার শুরু এই সময় থেকেই।

দাঙ্গার পশ্চাতে ক্রিয়াশীল অনেকগুলি বিষয়। তার মধ্যে অর্থনীতি এবং রাজনীতি দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয় দুটি বহু আলোচিত এবং আমরা, বিশেষত বর্তমান প্রজন্ম এর সাথে যথেষ্ট পরিচিত। রাজনীতির বিষয়টি ব্রিটিশদের আমদানিকৃত। এ ছাড়া বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক কারণ দীর্ঘদিন থেকেই বিভিন্ন রূপে ক্রিয়াশীল। এইগুলি ছাড়াও আরও বহুবিধ কারণে দাঙ্গা সংগঠিত হয়। যেমন প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নর-নারীর অবৈধ সম্পর্ক, গুজব, খাদ্যাখাদ্য নিয়ে বিবাদ প্রভৃতি। তবে আমার মতে এগুলি দাঙ্গার তাৎক্ষণিক কারণ বা Contributory cause হতে পারে, আর সেটাই সব নয়। এগুলিকে আমরা শুধু উপলক্ষ বলতে পারি। আসল কারণ ও উদ্দেশ্য সাম্প্রদায়িক মতাদর্শের পটভূমির উপর তৈরি ethnic cleansing-এর মানসিকতা এবং আধিপত্যবাদ।
এবার একটু অন্যভাবে দেখা যাক। দাঙ্গাকে যদি আমরা একটা যুদ্ধ হিসাবে দেখি তাহলে বিষয়ের অন্য একটি স্তরের আবরণ উন্মোচিত হয়। এই ‘দাঙ্গা’ নামক যুদ্ধটা কার বিরুদ্ধে? এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে আমরা উত্তর খুঁজে বেড়াই-কিন্তু সহজে কি উত্তর পাই? পাই না। কারণ বিষয়ের গভীরে, দর্শনের গভীরে আমরা যেতে অপারগ এবং আমাদের সুবিপুল অনীহা। তাই চেষ্টাও করি না। অথচ চেষ্টা করলে দেখা যেত যে যুদ্ধটা প্রকৃতপক্ষে মানুষেরই বিরুদ্ধে, মানবতার বিরুদ্ধে, সভ্যতার বিরুদ্ধে এবং সুবিপুল স্বার্থের স্বপক্ষে। তা না-হলে আমরা কি বলতে পারি যে, আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের বন্ধু, পরহিতৈষী? বোধ হয় পারি না। বোধ হয় কেন? নিশ্চিত পারি না।

আমাদের উচ্চারণ তো এখানে এসেই থমকে দাঁড়ায়। তাই মানবতাবাদী লেখকের কলমে লেখা হয়, “প্রতিটি অহিন্দু প্রতিটি হিন্দুর শত্রু কিনা, অথবা প্রতিটি অমুসলমান
প্রতিটি মুসলমানের শত্রু কিনা-এ প্রশ্ন থাক। তারও আগে জানা দরকার-প্রতিটি হিন্দুই কি প্রতিটি হিন্দুর বন্ধু? প্রতিটি মুসলমান প্রতিটি মুসলমানের বন্ধু ? একজন সৎ হিন্দু কি হিন্দু ধর্মাবলম্বী একজন অসৎ মানুষকে নিজের বন্ধু বলে মনে করেন? একজন সৎ মুসলমান কি স্বধর্মী একজন দুর্নীতিপরায়ণ মানুষকে প্রকৃত মুসলমান বলে মনে করেন? তাকে নিজের বন্ধু বলে ভাবতে পারেন? একজন ভ্রষ্ট মানুষ কি প্রকৃত হিন্দু হতে পারেন? অথবা একইভাবে মুসলমান? খ্রিস্টান? কোন হৃদয়বান হিন্দু কি কোন হৃদয়বান মুসলিম কে শত্রু ভাবেন? মনে হয় না । তাহলে যুদ্ধটা কার বিরুদ্ধে, কেন?
আসলে যুদ্ধটা অজ্ঞানতার সঙ্গে অজ্ঞানতার। এর অবসান হলেই কোন রাষ্ট্র শক্তি মানুষের মধ্যে ফাটল ধরাতে পারবে না। এটিই মানব দর্শনের মূল কথা।

শেষের কথায় বলি, মানুষ আজ বড়ো বিপন্ন। সময়টাও বড়ো অস্থির ও ভয়ংকর। তাই মানুষের কান্নাও ভীষণ গভীর ও অনুচ্চারিত। মানুষের সেই অনুচ্চারিত কান্না শুনতে পান সংবেদনশীল মানুষরাই। বিশেষত শিল্পীরা। তাই বারবার সমাজের বিভিন্ন সংকটে আমাদের ফিরে যেতে হয় “সমাজের বিবেক” নামে পরিচিত “কবি”দের কাছে। তাই শেষ করছি কবির ভাষা দিয়েই। কবির মতোই জেগে থাকতে চাই সেই ক্ষণটির জন্য যখন মানুষ ফিরে পাবে তার অমূল্য সম্পদ-তার মানবিকতাকে। যখন মানুষ মুছে ফেলতে পারবে তার হিংস্রতাকে। তখন তো সবই সুরে-ছন্দে-লয়ে গাঁথা হবে। জীবন হবে মধুর। কবির ভাষায় সেই বাণীই শুনি প্রতিনিয়ত-
“তোমার উদ্ধত কণ্ঠ শান্ত হলে এঘর গেরস্থালি, পৃথিবী, জীবন এমন কি এই রক্ত ত্রাস থেমে যাবে।
তুমি সুন্দর হলে
পৃথিবীতে সুন্দরে সুর বাঁধবে মানুষ।
মানবতার আলোতে তোমাকে দেখব বলে, আমি উন্মাদের মতো জেগে আছি, বেঁচে আছি।”

—– আমরাও এ প্রার্থনাতেই জেগে থাকব। এভাবেই জেগে থাকব। বেঁচেও থাকব। কিন্তু ওরা বাঁচবে না-ওদের বাঁচতে দেব না। দাঙ্গাকারীদের বাঁচার কোনো অধিকার নেই। ওদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য আর একটা দাঙ্গা ভীষণ জরুরি। আসুন সবাই মিলে “শেষদাঙ্গা”টা সেরে ফেলি।
……….. ……….

১ বার পঠিত রিপোর্ট